এতিমদের জন্য ৭ মাদ্রাসায় প্রবাসী আকাশ মিয়ার কম্বল বিতরণ
আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:২১
সুদূর মরিশাসের কর্মব্যস্ত জীবনও তাকে ভুলিয়ে দিতে পারেনি নাড়ির টান। বিদেশের মাটিতে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটলেও তার মন পড়ে থাকে নিজ এলাকার সুবিধাবঞ্চিত এতিম শিশুদের কাছে। বলছিলাম মানবিক যুবক প্রবাসী আকাশ মিয়ার কথা। নিজের উপার্জিত অর্থের একটি বড় অংশ তিনি ব্যয় করছেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সাতটি মাদ্রাসার এতিমখানায়।
প্রতি মাসে চাল ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী বরাদ্দের পাশাপাশি তীব্র শীতে এতিম শিশুদের উষ্ণতা দিতে এবার তিনি পাঠিয়েছেন বিশেষ উপহার। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুই উপজেলার সাতটি মাদ্রাসার এতিমখানায় প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে নতুন কম্বল পৌঁছে দেওয়া হয়। কনকনে শীতে নতুন কম্বল পেয়ে শিশুদের মুখে ফুটে ওঠে প্রশান্তির হাসি।
আকাশ মিয়া আলফাডাঙ্গা উপজেলার সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম এলাকার জাকির মিয়ার ছেলে। তিনি মরিশাসের ঈশান কামিনী কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন।
শুধু খাদ্য বা বস্ত্র নয়, মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে বিভিন্ন আধুনিক সরঞ্জাম দিয়েও তিনি দীর্ঘ দিন ধরে সহায়তা করে আসছেন। স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষকরা আকাশ মিয়ার এই মহতী কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
আলফাডাঙ্গা উপজেলা সদরের তাহফিজুল কুরআন ক্যাডেট মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ ইমামুদ্দিন ও সদর ইউনিয়নের জাটিগ্রাম শাহ্ আরজানিয়া মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মারুফ বিল্লাহ বলেন, ‘আকাশ মিয়া আমাদের মাদ্রাসায় প্রতি মাসে প্রয়োজনীয় চালের জোগান দেন। যার ফলে বাচ্চাদের খাদ্যের দুশ্চিন্তা করতে হয় না। এবার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য কম্বল পাঠিয়েছেন। মসজিদ-মাদ্রাসার যেকোনো উন্নয়ন কাজে তাকে আমরা সবসময় পাশে পাই।’
কাশিয়ানী পোনা মারকাযুল উলুম মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল করিম ও খায়েরহাট ছায়াদাতিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা নুরুজ্জামানও একই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘এতিম বাচ্চাদের মুখে হাসি ফোটাতে আকাশ মিয়া নিয়মিত সহায়তা পাঠান। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এভাবে এগিয়ে এলে এতিম শিশুদের পথচলা অনেক সহজ হয়ে যায়।’
নিজের এই মানবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে মুঠোফোনে আকাশ মিয়া বলেন, ‘আমি প্রবাসে থাকলেও সব সময় অনুভব করি আমার এলাকার এই এতিম শিশুদের কথা। আল্লাহ আমাকে যতটুকু সামর্থ্য দিয়েছেন তা দিয়ে আমি সবসময় এই অসহায় বাচ্চাদের পাশে থাকতে চাই। তাদের মুখে হাসি দেখলে আমার সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। এটি কোনো দান নয় বরং আমার ওপর অর্পিত সামাজিক দায়বদ্ধতা। আমি সবার কাছে দোয়া চাই যেন ভবিষ্যতেও এভাবে মানুষের সেবা করে যেতে পারি।’
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, আকাশ মিয়ার মতো সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা যদি এভাবে এগিয়ে আসেন তবে এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জীবনযাত্রা অনেক সহজ ও সুন্দর হবে।
এমএইচএস

