Logo

সারাদেশ

বিএনপির ‘পরীক্ষিত নেতা’ বনাম জামায়াতের নীরব গণসংযোগ, রূপগঞ্জে এগিয়ে কে?

Icon

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৩২

বিএনপির ‘পরীক্ষিত নেতা’ বনাম জামায়াতের নীরব গণসংযোগ, রূপগঞ্জে এগিয়ে কে?

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের নির্বাচনি মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু (ধানের শীষ) ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন মোল্লা (দাঁড়িপাল্লা) ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন।

চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাটবাজার ও পাড়ামহল্লায় এখন প্রধান আলোচনার বিষয় ভোট। উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাত পর্যন্ত মাইকিং, লিফলেট বিতরণ, গণসংযোগ ও পথসভায় ব্যস্ত ছিলেন তারা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রূপগঞ্জে আওয়ামীপন্থি, তরুণ, সংখ্যালঘু ও নারী ভোটারদের রায়ই এবারের নির্বাচনি সমীকরণ বদলে দিতে পারে।

এদিকে, বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন জোরালো হচ্ছে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি পূর্বাচল উপশহরের হাড়ারবাড়ি এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ দুলাল হোসেন দিপুকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। পরের দিন গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী ওয়াসিম উদ্দিনও একই পথ অনুসরণ করেন। বিএনপির মনোনয়ন না পেয়েও দলটির বিজিএমইএ’র সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান দিপুর সঙ্গে গণসংযোগে অংশ নেন। নেতাকর্মীদের দাবি, এতে দলীয় কোন্দল অনেকটা কাটে এবং নেতাকর্মীরা একসঙ্গে প্রচারণায় নামেন।

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. ইমদাদুল্লাহ হাশেমী (হাতপাখা), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মো. মনিরুজ্জামান চন্দন (কাস্তে) ও ইনসানিয়াত বাংলাদেশের প্রার্থী মো. রেহান আফজাল (আপেল) তুলনামূলক ধীরগতিতে প্রচার চালাচ্ছেন।

রূপগঞ্জ আসনে বিএনপির ঐতিহ্যবাহী ভোটভিত্তি রয়েছে। ১৯৭৯, ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে জোটপ্রার্থী হিসেবে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল মতিন চৌধুরী জয়ী হন।

এবার প্রথমবারের মতো দলীয় মনোনয়ন পাওয়া দিপু পারিবারিকভাবেই এলাকায় পরিচিত। তার চাচা সুলতানউদ্দীন ভুঁইয়া টানা ৯ বছর এমপি ছিলেন। অন্য চাচা ও দুই চাচাতো ভাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। দিপুর পিতা মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরিবারের শিল্প প্রতিষ্ঠানে একসময় ১০ হাজারের বেশি লোক কাজ করত। ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত মসলিন কটন মিল ও ভুলতা গাউছিয়া পাইকারি মার্কেট এলাকার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

শিক্ষাখাতেও পরিবারটির অবদান রয়েছে। দিপু ১৯৯৫ সালে পিতার নামে গোলাকান্দাইল মুজিবুর রহমান ভুঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তার পিতা ১৯৭৯ সালে রূপগঞ্জে সহিতুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় দিপু বিএনপি কর্মীদের কাছে ‘পরীক্ষিত নেতা’ হিসেবে পরিচিত।

জামায়াতে ইসলামী এবার ভিন্ন কৌশলে এগোচ্ছে। স্বাধীনতার পর এ আসনে দলটি কখনো মুখ্য প্রতিদ্বন্দ্বি না হয়ে উঠলেও এবার নীরবে ব্যাপক গণসংযোগ চালাচ্ছে। উঠান বৈঠক, পথসভা, লিফলেট বিতরণ, মসজিদে মুসল্লিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও নারী কর্মীদের মাধ্যমে নারী ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, প্রার্থীদের মধ্যে ততই অস্বস্তি বাড়ছে। তরুণ ও নারী ভোটারদের সমর্থন পেতে বিএনপি ও জামায়াত উভয় পক্ষই মরিয়া।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রবাসী ও চাকরিজীবীদের পোস্টাল ভোটও জয়-পরাজয় নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সংখ্যালঘু, আওয়ামীপন্থি, নতুন ও নারী ভোটারদের ভোট নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীরা প্রতিটি কেন্দ্রে এ ভোটারদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিতে না পারা বিপুলসংখ্যক তরুণ-তরুণী এবার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। অনেক তরুণ দলীয় প্রতীকের চেয়ে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ, সততা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। এজন্য প্রার্থীরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাড়ায় পাড়ায় ছুটে বেড়াচ্ছেন। প্রচারণায় প্রার্থীদের স্ত্রী, সন্তান ও আত্মীয়স্বজনেরাও সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।

সরকারি মুড়াপাড়া কলেজের শিক্ষার্থী আঞ্জুমান আরা বলেন, ‘নারীদের ঘরে বন্দি না রেখে জাতীয় স্বার্থে সব ক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করতে হবে। যে প্রার্থী নারীদের জন্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবেন, তারই জয়ের সম্ভাবনা বেশি।’

রূপগঞ্জ আসনে দুটি পৌরসভা ও সাতটি ইউনিয়ন রয়েছে। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮ হাজার ৮২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৮৪৯ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৯৭৭ জন ও হিজড়া ভোটার ৩ জন। ১২৯টি ভোটকেন্দ্রে ৭৬৩টি ভোটকক্ষ রয়েছে। সাতজন প্রার্থীর মধ্যে দুইজন ইতোমধ্যে বিএনপির প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, রূপগঞ্জে ততই বাড়ছে উত্তাপ। শেষ পর্যন্ত কোন ভোটারগোষ্ঠী নির্বাচনি ফলাফলে নির্ধারক ভূমিকা রাখে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সবাই।

আকাশ/এআরএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

সংসদ নির্বাচন বিএনপি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর