সারাদেশে বিভিন্ন কেন্দ্রে পৌঁছাতে শুরু করেছে ব্যালট-সরঞ্জাম
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪:১১
ছবি : বাংলাদেশের খবর
নির্বাচনের ২৪ ঘণ্টাও বাকি নেই। এখন চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। তারই অংশ হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রী কেন্দ্রে পাঠানো শুরু হয়ে গেছে। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসাররা ভোটের ‘মালামাল বিতরণ’ কেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপারসহ অন্যান্য সামগ্রী বুঝে নিচ্ছেন। প্রিজাইডিং অফিসাররা প্রস্তুত হয়ে সব সামগ্রী বুঝে নিবেন এবং নিজ নিজ কেন্দ্রে চলে যাবেন বলে জানা গেছে। বাংলাদেশের খবরের প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে বিস্তারিত।
ফেনী : ফেনীর তিনটি সংসদীয় আসনের ৪২৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এখানে ১৩ লাখ ৩০ হাজারের বেশি ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মনিরা হক জানান, সকল কেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে এবং শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি বলেন, ‘৪২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৫টি সাধারণ, ২৪৮টি গুরুত্বপূর্ণ ও ৫৫টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ১৮ প্লাটুন বিজিবি, ৯ প্লাটুন সেনাবাহিনী, পুলিশের ৫৪টি মোবাইল টিমসহ ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।’
ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি আসনের ৮০৫টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। স্বচ্ছ ব্যালট বক্স, অমোচনীয় কালি, সাদা ও গোলাপি ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো হয়েছে। নির্বাচনে ৮০৫ জন প্রিজাইডিং অফিসার ও ১৫ হাজারের বেশি সহকারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে রয়েছেন।
নরসিংদী : নরসিংদীর পাঁচটি আসনের ৬৬৩টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম সকাল থেকে বিতরণ করা হচ্ছে। জেলায় মোট ভোটার ১৯ লাখ ৭১ হাজার ২৩৭ জন। ঝুঁকিপূর্ণ ৩৯৩টি কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। সেনা, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিসি ক্যামেরা।
লামা (বান্দরবান) : বান্দরবানের লামা উপজেলার ৪২টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বক্স ও ব্যালট পেপার পাঠানোর কাজ শুরু হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার কেন্দ্রগুলোতে সরঞ্জাম পৌঁছাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উপজেলায় মোট ভোটার ৮৭ হাজার ৫৫৪ জন। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
আলফাডাঙ্গায় (ফরিদপুর) : ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার ৪০টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট বক্স ও নির্বাচনি সামগ্রী সকাল থেকে বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে। প্রিজাইডিং অফিসার, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নির্বাচনি উপকরণ নিয়ে কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।
যশোর : যশোরের ছয়টি আসনের ৮২৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩০২টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনে সর্বাধিক ৯৩টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা, বডি ক্যামেরা ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেনা, র্যাব ও বিজিবির সদস্যরা সহায়ক ভূমিকায় থাকবেন।
ফরিদপুর : আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুরের চারটি আসনের সব ভোটকেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও অন্যান্য সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে। সকাল থেকে ৯টি উপজেলা পরিষদ থেকে প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে এসব সামগ্রী হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নিরাপত্তায় অফিসাররা কেন্দ্রে পৌঁছাচ্ছেন। জেলায় অস্থায়ী দুটি কেন্দ্রসহ মোট ৬৫৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিশকাতুল জান্নাত রাবেয়া।
নরসিংদী (পলাশ) : নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে। সকালে পলাশ উপজেলা পরিষদে কঠোর নিরাপত্তায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে এসব উপকরণ হস্তান্তর করা হয়। এ আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ৮৬ হাজার ২১৮ জন। কেন্দ্র ৯১টি, এর মধ্যে ২২টি ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালী : পটুয়াখালীর চারটি আসনের ৫১৩ কেন্দ্রে সকাল থেকে ভোটের সরঞ্জাম বিতরণ শুরু হয়েছে। ২ হাজার ৫৩৬ কক্ষে ১৫ লাখ ৯ হাজার ৫৮৭ ভোটারের ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনি নিরাপত্তায় ২৬ প্লাটুন সেনা, ৭ প্লাটুন বিজিবি, ৬ র্যাব , কোস্টগার্ড, আনসার, ১৫০০ পুলিশ ও ৩০ ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গেল ২ ফেব্রুয়ারি আসন ভিত্তিক প্রার্থীর নাম ও মার্কাসহ ব্যালট পেপার রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো শুরু করে নির্বাচন কমিশন। সারাদেশে ধাপে ধাপে ব্যালট পেপারের সঙ্গে অন্যান্য নির্বাচনি সামগ্রীও পাঠানো হয়। এরপর রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এসব নির্বাচনি সামগ্রী সংরক্ষিত ছিল; ভোটের আগের দিন সেসব কেন্দ্রে-কেন্দ্রে পৌঁছানো হচ্ছে। এবার ভোটে ৫০টি দল এবং স্বতন্ত্রসহ ২৯৯ আসনে প্রার্থী ২০২৮ জন। ৪২ হাজার ৬৫৯ কেন্দ্রে সশরীরে ভোটগ্রহণ হবে। আর ২৯৯টা কেন্দ্রে পোস্টাল ভোট গণনা করা হবে। সব মিলিয়ে ৪২৯৫৮ কেন্দ্রে ভোট হবে। এবার ১২ কোটি ৭৭ লাখেরও বেশি ভোটার রয়েছেন।
এআরএস

