ফরিদপুর-৪ আসনের পরিবেশ ‘উত্তপ্ত’ দাবি স্বতন্ত্র প্রার্থীর, এজেন্ট নিয়ে শঙ্কায়
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯:০৪
ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে স্বতন্ত্র প্রার্থী এএএম মুজাহিদ বেগ দাবি করেছেন, আসনটিতে ‘উত্তপ্ত পরিবেশ’ বিরাজ করছে। ভোট কেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়া নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, সমর্থক ও এজেন্টদের হুমকি-ধমকি, হেনস্তা, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। এছাড়া কালো টাকার ছড়াছড়ি ও প্রতিটি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আজ বুধবার বিকালে চরভদ্রাসন উপজেলার নিজ নির্বাচনী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন। তিনি আসনটি থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা মো. সারোয়ার হোসেন। ‘পরিবেশ উত্তপ্ত’ করার জন্য তিনি বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের দায়ী করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জীবনের শঙ্কায় রয়েছেন বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার আসনের নির্বাচনের মাঠ খুব উত্তপ্ত। প্রতিদিন আমার সমর্থকদের বাড়িতে হামলা ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমাদের একটি হাসপাতালেও বিএনপির সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছে। বিভিন্ন বাড়িতে গভীর রাতে সশস্ত্র অবস্থায় ডিবি পরিচয়ে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আমাদের কর্মীরা যাতে ঘর থেকে বের হতে না পারে সেজন্য ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। নারী কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, পুরুষ কর্মীদের রাতে তুলে নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনের পর কেউ ঘরে থাকতে পারবে না বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা নিয়ে আমরা জীবনের শঙ্কায় আছি।’ এ সময় তিনি গুপ্ত হামলারও আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো এজেন্ট যেন কোনো কেন্দ্রে না যেতে পারে সেজন্য যা যা করার সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মীরা আমার কর্মী সমর্থকদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে বলে আসছে, আমি যেন এজেন্ট দিতে না পারি। আমি যাদের এজেন্ট দিয়েছি তাঁদের ধানের শীষের ব্যাজ লাগিয়ে বাড়ি যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।’
এছাড়া প্রতিটি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তারমধ্যে সদরপুরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের সবগুলো কেন্দ্র, ভাঙ্গা উপজেলার মহেশ্বরদি মৌজার কেন্দ্র, ভাঙ্গা সদরের সবগুলো কেন্দ্র, ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের সব কেন্দ্র, চরভদ্রাসন সদর ও হরিরামপুর ইউনিয়নের সব কেন্দ্র ও চরাঞ্চল সব কেন্দ্র বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, ‘ফরিদপুর-৪ আসনে যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, প্রশাসন যদি কঠোর পদক্ষেপ না নেয় তাহলে নির্বাচন নিরপেক্ষ করা কোনোভাবেই সম্ভব না। আশা করি, প্রশাসন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ থেকে সবার জন্য সমানভাবে ইতিহাসের সেরা নির্বাচন করার ব্যবস্থা করবে।’
তবে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় সকল ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘চারটি আসনে ৭১৬ জন সেনাবাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তা, ১৩ প্লাটুন বিজিবি, ৩৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৪ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে রয়েছেন। এছাড়া ৮৭টি ইউনিটে ৮৭টি ডেডিকেটেড ফোর্স রয়েছে। প্রতিটি ফোর্সে ৭ জন পুলিশ সদস্য ১০ জন করে আনসার সদস্য রয়েছেন।
অপূর্ব অসীম/এইচকে

