Logo

সারাদেশ

ভোটের প্রস্তুতি চূড়ান্ত

দেশজুড়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছেছে নির্বাচনি সরঞ্জাম

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:২৫

দেশজুড়ে কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছেছে নির্বাচনি সরঞ্জাম

ছবি : বাংলাদেশের খবর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকেকে ঘিরে দেশজুড়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সারাদেশের বিভিন্ন আসনে নির্বাচনি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া শেষ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার নিশ্চিত করতে শতভাগ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তারা বলছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন পুরোপুরি প্রস্তুত। ভোটকেন্দ্র দখল, ভীতিপ্রদর্শন বা কারচুপির কোনো সুযোগ থাকবে না বলেও জানিয়েছেন তারা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মেনে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। বাংলাদেশের খবর’র জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে বিস্তারিত।

বগুড়া : বগুড়ায় ভোটগ্রহণের জন্য সাতটি সংসদীয় আসনের ৯৮৩টি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্সসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জেলায় মোট ভোটার ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৯৪০ জন; এর মধ্যে নারী ভোটার পুরুষের চেয়ে প্রায় ২০ হাজার বেশি। বুজুর্গ ধামা রহমানিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বুঝে নিয়েছি। আশা করছি বৃহস্পতিবার একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর ভোট উপহার দিতে পারব।’

সদর উপজেলার ১৫০টি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের মোবাইল টিম কাজ করছে। বগুড়া সদর উপজেলা প্রশাসক ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওয়াজেদ বলেন, ‘এবার বাড়তি সতর্কতা হিসেবে সব কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলার সার্বিক পরিস্থিতি সন্তোষজনক।’

ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের চারটি আসনের ৫৮৮টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপার ও অন্যান্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। জেলায় মোট ভোটার ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৩৯৩ জন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ২১ জন। নিরাপত্তায় প্রায় ১১ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ জানান, ‘ভোটগ্রহণ নিরাপদ ও সুষ্ঠু করতে জেলার সব কেন্দ্রে পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েন থাকবে।’

গাজীপুর : গাজীপুর-৩ আসনের ১৮০টি কেন্দ্রে নির্বাচনি সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে। এ আসনে ভোটার ৫ লাখ ২৭ হাজার ৩৬৪ জন। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।

পিরোজপুর : কাউখালীর ৩৩টি ভোটকেন্দ্রে সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে। ১৮টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ও সব কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সংখ্যালঘু এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘কোনো ব্যক্তি ভোটকেন্দ্রে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করলে কঠোরভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কালিয়াকৈরে (গাজীপুর) : কালিয়াকৈরে গাজীপুর-১ আসনের কেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের কাছে সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই এসব সামগ্রী কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, সবার সহযোগিতায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) : সাটুরিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৬০টি কেন্দ্রে সরঞ্জাম বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, ‘সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’

মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের তিনটি আসনের ৫১৫টি কেন্দ্রে ব্যালট বাক্স ও অন্যান্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ৬৭টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করে সব কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তায় ৯ হাজার ৬০০ বাহিনী সদস্য মোতায়েন থাকবেন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘সব কেন্দ্রে নির্বাচনের সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে। পুরো মানিকগঞ্জ জেলাকে আমরা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দিয়েছি। শতভাগ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।’ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, ‘কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচনি সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। চরাঞ্চলের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) : কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী আসনের কেন্দ্রগুলোতে কড়া নিরাপত্তায় সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া শুরু হয়েছে। এ আসনে কলাপাড়ায় ২ লাখ ১৪ হাজার ও রাঙ্গাবালীতে ৯৪ হাজার ভোটার রয়েছেন।

চরফ্যাসন (ভোলা) : চরফ্যাসনের ১৩০টি কেন্দ্রে সন্ধ্যার মধ্যে সব সরঞ্জাম পৌঁছেছে। এ আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৮৩৬ জন। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটাররা যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

লালমোহন (ভোলা) : লালমোহনের ৮৩টি কেন্দ্রসহ ভোলা-৩ আসনের ১১৯টি কেন্দ্রে সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে। ২১টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র চিহ্নিত করে ৪০টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এ আসনে ছয়জন প্রার্থী লড়ছেন। লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য আমাদের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছি।’

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) : কুলাউড়া আসনের ১০৩টি কেন্দ্রে ব্যালট পেপারসহ সরঞ্জাম পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ৪৯টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। এ আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩ হাজার ২০ জন। সরকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছি। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

এআরএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

সংসদ নির্বাচন

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর