ভোটের গোপনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন, ভাইরাল সিলমারা ব্যালটের ছবি
নাজমুল হাসান, নাটোর
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:২৫
ছবি : বাংলাদেশের খবর
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালেই নাটোর জেলার চারটি আসনের বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে সিল দেওয়া ব্যালট পেপারের অসংখ্য ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এসব ছবি ভাইরাল হওয়ায় নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ভোটের গোপনীয়তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভোটের দিন সকাল থেকেই একাধিক ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি ও পেজে সিল দেওয়া ব্যালটের ছবি পোস্ট হতে দেখা যায়। কোনো কোনো পোস্টে দেখা গেছে, ভোটাররা গোপন কক্ষে নির্দিষ্ট প্রতীকে সিল মারার পর ব্যালটের ছবি তুলে তা ফেসবুক ও টিকটকে প্রকাশ করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে পোস্টগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা দলের পক্ষে সমর্থনমূলক মন্তব্যও যুক্ত ছিল, যা ভোটের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
একক ব্যালট তো বটেই, একাধিক ব্যালট পেপারের ছবিও সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে। এসব ছবির সত্যতা, উৎস ও সময় নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এসব ছবি ভোট জালিয়াতি বা ব্যালট ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের ইঙ্গিত কি না। আবার অনেকেই ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির ঘাটতির বিষয়টি সামনে আনছেন।
নির্বাচনি আইন অনুযায়ী ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা বাধ্যতামূলক এবং ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন ব্যবহার, বিশেষ করে ব্যালটের ছবি তোলা বা প্রকাশ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে সাধারণ ভোটারদের মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশের অনুমতি নেই। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে ভোটাররা মোবাইল ফোনসহ কেন্দ্রে প্রবেশ করলেন এবং গোপন কক্ষে ছবি তুলতে পারলেন?
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব ছবি ও ভিডিওর বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা আসমা শাহীন বলেন, ‘প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে আগেই সতর্ক করা হয়েছে। ভোটের গোপনীয়তা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা নজরে এলে তারা যেন তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, সে নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।’
এআরএস

