ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা
ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২১:৩৯
ছবি: সংগৃহীত
স্বামীর নিষেধ অমান্য করে ভোট দেওয়ায় ফেনীতে বিবি জহুরা নামের এক গৃহবধূকে তালাক দিয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক নেতা।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জনতার তোপের মুখে পালিয়ে গেছেন ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন কাওসার।
ঘটনার পরপর স্থানীয় লোকজন কাওসারকে মারধর করে আটকে রাখেন। স্ত্রীকে দেওয়া মৌখিক তালাক ফিরিয়ে নেবেন—এমন কথা বলে একপর্যায়ে কৌশলে পালিয়ে যান তিনি। কাওসার ওই এলাকার মৃত ইউসূফ হাজারীর ছেলে।
এলাকাবাসী জানান, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জহুরাকে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিষেধ করেন তাঁর স্বামী কাওসার। কিন্তু প্রথমবারের মতো ভোটার হওয়ায় উৎসাহ নিয়ে তিন সন্তানকে সঙ্গে করে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন জহুরা। সে সময় কাওসার ঘুমিয়ে ছিলেন।
ভোট দিয়ে সকাল ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে স্বামীসহ সবার জন্য নাশতা প্রস্তুত করেন তিনি। কাওসার বেলা ১১টার দিকে ঘুম থেকে উঠে নাশতা করেন। পরে এলাকায় ঘোরাফেরা করে দুপুরে ভাত খেয়ে আবার ঘুমিয়ে পড়েন। বিকেলে ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পাশের রাস্তায় গিয়ে কারও কাছ থেকে জানতে পারেন, তাঁর স্ত্রী ভোট দিতে কেন্দ্রে গিয়েছিলেন।
মাগরিবের সময় বিষয়টি নিয়ে স্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে জহুরা তাঁর জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার কথা জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় জহুরাকে মৌখিকভাবে তিন তালাক দেন কাওসার। এ সময় স্ত্রীকে ঘরে যেতে নিষেধ করেন তিনি।
এ ঘটনায় আশপাশের লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে কাওসারকে আটক করে মারধর করেন। একপর্যায়ে জনসমাগম বাড়তে থাকলে বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াই বাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে কাওসারের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিস ইভানা (৮) ও ইসরাত জাহান ইসমাত (৪) নামে তিন সন্তান রয়েছে।
নুরুল আফছার নামের এক গ্রামবাসী জানান, বিয়ের পর থেকেই জহুরাকে মারধর করতেন কাওসার। এ নিয়ে কয়েকবার সামাজিকভাবে বিচারও হয়েছে।
এএস/

