Logo

সারাদেশ

ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

Icon

ফেনী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:১২

ভোট দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা

ছবি : সংগৃহীত

ফেনীতে স্বামীর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোট দেওয়ায় বিবি জহুরা নামে এক গৃহবধূকে মৌখিকভাবে তিন তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ইসমাইল হোসেন কাওসার ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ধর্মপুর বাঁশতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান কাওসার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী কাওসারকে আটক করে রাখে। পরে তালাক প্রত্যাহারের আশ্বাস দিয়ে কৌশলে সেখান থেকে সরে যান তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমবারের ভোটার হওয়া জহুরাকে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য নিষেধ করেছিলেন তার স্বামী। এর পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিন সন্তানকে নিয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন জহুরা। ওই সময় স্বামী ঘুমিয়ে ছিলেন বলে নিশ্চিত হন তিনি।

ভোট দিয়ে সকাল ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে স্বামীসহ পরিবারের সবার জন্য নাস্তা তৈরি করেন জহুরা। সকাল ১১টায় নাস্তা সেরে কাওসার বাড়ি থেকে বের হন। দুপুরে খাওয়ার পর আবার বিশ্রামে যান তিনি। বিকেলে বাড়ির পাশের রাস্তায় কারও কাছ থেকে স্ত্রীর ভোট দেওয়ার খবর জানতে পারেন কাওসার। মাগরিবের সময় এ নিয়ে জহুরার কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথম ভোট দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ির পাশের রাস্তায় তাকে মৌখিকভাবে তিন তালাক দেন বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে জহুরাকে ঘরে ঢুকতেও বাধা দেওয়া হয়।

ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা কাওসারকে আটক করে রাখেন। জনসমাগম বাড়তে থাকায় বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে সেখান থেকে সরে পড়েন তিনি।

জানা গেছে, ২০১৩ সালে ফেনী সদর উপজেলার মধুয়াবাজার এলাকার নুর আহম্মদের মেয়ে বিবি জহুরার সঙ্গে কাওসারের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আবদুল আলিম শুভ (১২), সাবিনা আফরিন ইভানা (৮) ও ইসরাত জাহান ইসমাত (৪) নামে তিন সন্তান রয়েছে।

স্থানীয় নুরুল আফছার দাবি করেন, বিয়ের পর থেকেই জহুরাকে নিয়মিত মারধর করতেন কাওসার। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার সামাজিক সালিশও হয়েছে। আলী আহম্মদ নামের আরেকজন জানান, কাওসার তার শ্বশুরকেও একাধিকবার মারধর করেছেন।

স্থানীয় সালিশদার মোহাম্মদ আজাদ বলেন, ‘আমি একাধিকবার এসব বিচারে উপস্থিত ছিলাম। কাওসার অত্যন্ত আক্রমণাত্মক স্বভাবের। অতীতে এলাকায় প্রভাবও বিস্তার করতেন।’

স্থানীয়দের ভাষ্য, পিতার পরিবার অসচ্ছল হওয়ায় সন্তানদের কথা চিন্তা করে অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালাতেন জহুরা। কাওসার ফেনী শহরের রেলগেট এলাকায় বেডিং কারিগরের কাজ করতেন। তবে সম্প্রতি তিনি তেমন কর্মচাঞ্চল্য নেই বলেও জানা গেছে।

তিন সন্তানকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন জহুরা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

এআরএস

প্রাসঙ্গিক সংবাদ পড়তে নিচের ট্যাগে ক্লিক করুন

সংসদ নির্বাচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট

আরও পড়ুন
Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর