কক্সবাজারে ১০ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৩
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজারের চারটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ১৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০ জনের নির্বাচনী জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। বিজয়ী ও তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাড়া বাকি প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান।
বাংলাদেশে সাধারণ প্রার্থীর জন্য নির্বাচনী জামানত ৩০ হাজার টাকা এবং নারী প্রার্থীর জন্য ১৫ হাজার টাকা নির্ধারিত। জেলা নির্বাচন অফিস জানিয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনে মোট বৈধ ভোটের ১২ দশমিক ৫ শতাংশের কম পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এবার কক্সবাজারে বাজেয়াপ্ত হওয়া অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
আসনভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী-
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) : এ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়ে ৩ লাখ ৬২ হাজার ৪৩৭। জামানত রক্ষার জন্য প্রয়োজন ছিল ৪৫ হাজার ৩০৪ ভোট। এখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. সারওয়ার আলী কুতুবী ৪ হাজার ৫২৮ ভোট পেয়ে জামানত হারান।
কক্সবাজার-২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) : এ আসনে মোট ভোট ২ লাখ ৩২ হাজার ৭০৯, প্রয়োজনীয় ভোট ছিল ২৯ হাজার ৮৮। এখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জিয়াউল হক ৮ হাজার ৭৯৯, জাতীয় পার্টির মো. মাহমুদুল হক ৭৫৭ এবং গণঅধিকার পরিষদের এস এম রোকনুজ্জামান খান ১৯৭ ভোট পেয়ে তিনজনই জামানত হারান।
কক্সবাজার-৩ (সদর–রামু–ঈদগাঁও) : এ আসনে মোট বৈধ ভোট ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫৯৪, প্রয়োজনীয় ভোট ছিল ৪৪ হাজার ৫৭৪। এখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমিরুল ইসলাম ৫ হাজার ১৪৯, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া ৯৪৭, বাংলাদেশ লেবার পার্টির জগদীশ বড়ুয়া ৬০২ এবং আমজনতা দলের নুরুল আবছার ৩৬৭ ভোট পেয়ে চারজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
কক্সবাজার-৪ (উখিয়া–টেকনাফ) : এ আসনে মোট ভোট ২ লাখ ৫৫ হাজার ২৩১, প্রয়োজনীয় ভোট ছিল ৩১ হাজার ৯০৩। এখানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নুরুল হক ৪ হাজার ৩৩৮ এবং জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাইফুদ্দিন খালেদ ৩৭৯ ভোট পেয়ে জামানত হারান।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান শুক্রবার চারটি আসনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, আইন অনুযায়ী যেসব প্রার্থী নির্ধারিত ভোটের সীমা অতিক্রম করতে পারেননি, তাদের জামানতের অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
ইমতিয়াজ মাহমুদ ইমন/এমবি

