নারায়ণগঞ্জ-৩
হেভিওয়েট বিদ্রোহীদের জামানত বাজেয়াপ্ত, বিএনপির মান্নানের জয়
মো. সজিব হোসেন, সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ)
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:১১
ছবি : বাংলাদেশের খবর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান বিজয়ী হয়েছেন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ও একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীকে বিপুল ভোটে পরাজিত করেছেন।
অপরদিকে, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. গিয়াস উদ্দিনের চরম ভরাডুবি হয়েছে; নির্বাচনের জামানত হারিয়েছেন তারা।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান মোট ভোট পেয়েছেন ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪০০টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৮ ভোট। ২০ হাজার ৪৮২ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়ে নিজের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেছেন মান্নান।
নির্বাচনের অন্যতম চমক ছিল দুই বর্ষীয়ান নেতার পরাজয়। সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম ও সাবেক সংসদ সদস্য মো. গিয়াস উদ্দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করলেও ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হন। এ ছাড়া তারা ছাড়াও আরও সাত জন প্রার্থী ন্যূনতম ভোট না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন।
জানা যায়, অধ্যাপক রেজাউল করিম এর আগে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। অপরদিকে গিয়াস উদ্দিন ২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি ছিলেন। এবারের নির্বাচনের আগে বিএনপি থেকে মোট আট জন মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। দল আজহারুল ইসলাম মান্নানের নাম ঘোষণা করলে রেজাউল করিম ও গিয়াস উদ্দিন বিদ্রোহী হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। এ জন্য পরে তাদের দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করায় ভোটাররা তাদের প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা রাজনৈতিকভাবে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’
বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমি আমার নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করে যাব।’
স্থানীয় ভোটারদের ধারণা, এই জয়ের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের অবসান ঘটিয়ে নতুন ধারার রাজনীতির সূচনা হতে পারে।
এআরএস

