পাঁচবারের সাংসদসহ জামানত হারালেন ঠাকুরগাঁওয়ের ১৪ প্রার্থী
আবু সালেহ, ঠাকুরগাঁও
প্রকাশ: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:৫৮
ছবি : বাংলাদেশের খবর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও জেলার তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ২০ প্রার্থীর মধ্যে ১৪ জনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
নির্ধারিত ন্যূনতম ভোট পেতে ব্যর্থ হয়ে এ জামানত হারানোর তালিকায় রয়েছেন পাঁচবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্যও। এ ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রচলিত আইন অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট আসনে মোট বৈধ ভোটের অন্তত এক-অষ্টমাংশ (১২ দশমিক ৫ শতাংশ) ভোট পেতে ব্যর্থ হলে তার জামানত ফেরত দেওয়া হয় না। সেই হিসাবে ঠাকুরগাঁওয়ের বেশির ভাগ প্রার্থী এই সীমা অতিক্রম করতে পারেননি।
ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনে তিনজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ আসনে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম জামানত হারিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও-২ (বালিয়াডাঙ্গী, হরিপুর ও রাণীশংকৈলের একাংশ) আসনে সাত প্রার্থীর মধ্যে পাঁচজন জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন গণঅধিকার পরিষদের ফারুক হাসান, জাতীয় পার্টির নুরুন নাহার বেগম, এবি পার্টির নাহিদ রানা, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের রেজাউল ইসলাম এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাহাবউদ্দিন আহমেদ।
ঠাকুরগাঁও-৩ (পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল) আসনে দশ প্রার্থীর মধ্যে আটজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই তালিকায় সবচেয়ে আলোচিত নামটি হলো পাঁচবারের সাবেক সাংসদ ও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
এ ছাড়া এ আসনে জামানত হারিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের মামুনুর রশিদ, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের আল আমিন, সুপ্রিম পার্টির আবুল কালাম আজাদ, সিপিবির প্রভাত সমির শাহাজাহান আলম, বাংলাদেশ মাইনোরিটি পার্টির কমলা কান্ত রায়, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের এস এম খলিলুর রহমান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আশা মনি।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওয়ালিউল্লাহ বলেন, ‘মোট বৈধ ভোটের এক-অষ্টমাংশের কম পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। জেলায় যারা ধানের শীর্ষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে নির্বাচন করেছেন, তারা ছাড়া অন্য প্রার্থীদের জামানত ফেরত পাওয়ার মতো ভোট পাননি।’
নির্বচানের ফলাফলে স্পষ্ট যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বাইরে ছোট ও নতুন দলগুলোর প্রার্থীরা এখনো শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে পারেননি। বিশেষ করে পাঁচবারের সাবেক সাংসদের জামানত হারানোর ঘটনা ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে নতুন করে ভাবনার খোরাক জুগিয়েছে।
এআরএস

