ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি প্যানেলের নিরস্কুশ জয়
ফেনী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:১৫
ছবি : বাংলাদেশের খবর
ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। সোমবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৫টি পদের মধ্যে ১০টিতেই জয় পেয়েছে বিএনপিপন্থি আইনজীবী কল্যাণ পরিষদ।
অপরদিকে জামায়াত সমর্থিত আইনজীবী সম্প্রীতি পরিষদ চারটি পদে জয়ী হয়েছে। একটি পদে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনার ও সমিতির সভাপতি নুরুল আমিন খাঁন এবং সাধারণ সম্পাদক মীর মোশাররফ হোসেন মানিক ফল ঘোষণা করেন।
বিএনপি সমর্থিত আইনজীবী কল্যাণ পরিষদ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে ফরিদ উদ্দিন খাঁন নয়ন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে হাছান মাহমুদ বিজয়ী হন।
এছাড়া একই প্যানেল থেকে সহসভাপতি পদে মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম ও মো. সামছু উদ্দিন মানিক, অডিটর পদে হুমায়ুন কবীর বাদল, লাইব্রেরি সম্পাদক পদে ইয়াসীন আরাফাত তারেক এবং সদস্য পদে আবদুল্লাহ আল মামুন জুয়েল, মো. মনির উদ্দিন সোহাগ, আরিফুল ইসলাম ও মো. আবদুর রহিম সুজন নির্বাচিত হন।
অপরদিকে জামায়াত সমর্থিত আইনজীবী সম্প্রীতি পরিষদ প্যানেল থেকে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে আলাউদ্দিন বিন ওয়াদুদ, অর্থ সম্পাদক পদে মাহমুদুল হাসান এবং সদস্য পদে শাহীদুল হক ও নাঈম উদ্দিন জয়ী হন। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন।
এর আগে সোমবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সমিতি ভবনে ভোটগ্রহণ চলে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উত্তাপ শেষ না হতেই এই পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে বাড়তি উচ্ছ্বাস লক্ষ করা যায়। সমিতির মোট ৩৪৬ জন আইনজীবীর মধ্যে ৩২৬ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এক বছরের মেয়াদে গঠিত এই কমিটির ১৫টি পদের জন্য ৩২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে এবারই প্রথম পৃথক প্যানেল নিয়ে অংশ নেয় বিএনপি ও জামায়াত। এর আগে বিএনপি-জামায়াত একসঙ্গে একটি প্যানেল এবং আওয়ামী লীগ অপর প্যানেলে নির্বাচন করত। তবে টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি আওয়ামী লীগ সমর্থিত কোনো প্যানেল।
প্রাথমিকভাবে ১৭ জানুয়ারি নির্বাচনের তারিখ নির্ধারিত ছিল; কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় তা স্থগিত করা হয়। পরে অতিরিক্ত সাধারণ সভা ডেকে সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে ১৬ ফেব্রুয়ারি নতুন করে ভোটের দিন ধার্য করা হয়। ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আইনজীবী সমিতির বর্তমান ভোটার সংখ্যা ৩৪৬ জন।
এম. এমরান পাটোয়ারী/এআরএস

