ফরিদপুরে জামায়াত কর্মীদের বাড়ি-দোকানে হামলা, ভাঙচুর
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:৩৮
ফরিদপুর শহরের উপকণ্ঠ বাখুন্ডা এলাকায় জামায়াত কর্মীদের বাড়ি ও দোকানে হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন। ছবি : বাংলাদেশের খবর
ফরিদপুর শহরের উপকণ্ঠ বাখুন্ডা এলাকায় জামায়াত কর্মীদের বাড়ি ও দোকানে হামলা, মারধর ও ভাঙচুরের ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ৩ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ফরিদপুর-৩ আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী প্রফেসর আবদুত তাওয়াব আহতদের দেখতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। পরে তিনি ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন।
গুরুতর আহত মো. আজিজুল বর্তমানে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া আলমগীর হোসেন ও সজিবের পরিবারের সদস্যরাও আহত হয়েছেন। ভাঙচুরের সময় জানালার কাচ ভেঙে সজিবের ঘুমন্ত সন্তানের বাম কানে আঘাত লাগে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রফেসর আবদুত তাওয়াব এ সময় ফরিদপুর-৩ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও সহিংসতা এড়িয়ে চলতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
জেলা জামায়াতের নেতারা প্রশাসনের প্রতি দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। পরিদর্শনকালে জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. বদরউদ্দিন, সেক্রেটারি প্রফেসর আব্দুল ওহাবসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে তারাবি নামাজ শেষে বাখুন্ডা রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী এ হামলা চালায় বলে জানান ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন। গেরদা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিলন মেম্বারের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
হামলার সময় আক্রান্তরা ট্রিপল নাইন নম্বরে ফোন করলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন গেরদা ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন।
ইউপি সদস্য রাসেদ খান মিলন বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। গণ্ডগোল হচ্ছে— এমন খবর পেয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি জানান, ওই স্থানে দোকানে চা খাওয়ার সময় জুয়েল নামের একজনের ওপর জামায়াত কর্মীরা আক্রমণ করলে গণ্ডগোলের সূত্রপাত হয়। আহত জুয়েল ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপূর্ব অসীম/এমবি

