Logo

সারাদেশ

একুশ মানে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা : মাসুদ সাঈদী

Icon

ডিজিটাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০০:৪৫

একুশ মানে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা : মাসুদ সাঈদী

ছবি: সংগৃহীত

পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী বলেছেন, আজ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এই দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হওয়া উচিত অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করা এবং একুশ যে চেতনা আমাদের শিখিয়েছে, সেই চেতনাকে সর্বদা ধারণ করা। আমরা প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করি। তবে দিবসটি কেবল আলোচনা সভার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাচ্ছে; একুশের চেতনা আমরা সর্বস্তরে ধারণ করতে পারছি না। আমরা একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করি, জীবন দিয়েছি, রক্ত দিয়েছি বাংলা ভাষার জন্য। বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত এবং কাঙ্ক্ষিত একটি সরকার। সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালুর যে ব্যবস্থা আমরা হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদের আমলে দেখেছিলাম, সেটি প্রতিটি সরকারের আমলে শুধু বক্তব্যেই শোনা যায়; কিন্তু সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন এখনো চালু হয়নি।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জেলা প্রশাসক আবু সাইদের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মঞ্জু, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহমেদ সিদ্দিকীসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

মাসুদ সাঈদী আরও বলেন, একুশ আমাদের শুধু মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখায়নি, বরং যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতেও শিখিয়েছে। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান—প্রত্যেকটির পেছনে একুশের চেতনা কাজ করেছে। বিশেষ করে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধসহ প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে একুশের চেতনা সম্পৃক্ত। আমরা যদি আমাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে এই চেতনাকে ধারণ করতে পারি, তাহলে আশা করা যায়, বাংলাদেশ দীর্ঘ ৫৪ বছরে যে কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছাতে চেয়েছিল, তা অর্জন সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, আজ থেকে ৭৪ বছর আগে সংঘটিত মহান ভাষা দিবস উপলক্ষে যে শহীদরা রক্ত দিয়েছেন, তাদের ঋণ শোধ করা সম্ভব হবে তখনই, যখন একটি সুখী, সমৃদ্ধশালী, বৈষম্যহীন ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন করা যাবে। তবেই শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করা সম্ভব।

আলোচনা সভায় অন্যান্য বক্তারা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। তারা বলেন, মাতৃভাষার অধিকার রক্ষায় বাঙালির আত্মত্যাগ বিশ্ব ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষা আজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।

সভা শেষে জাতীয় শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কবিতা আবৃত্তির বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

এএস/

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ হাসনাত কাদীর