ঐতিহাসিক রঘুনাথ জিউ মন্দির ঠাকুরগাঁওয়ে লাখো ভক্তের ঢল
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, ২০:৩৮
এম
এ রাজ্জাক, নওগাঁ
শ্রদ্ধা,
ভক্তি ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে নওগাঁর মান্দা উপজেলার ঐতিহাসিক ঠাকুর মান্দা রঘুনাথ জিউ মন্দিরে পালিত হচ্ছে পবিত্র রাম নবমী। ত্রেতা যুগের অবতার শ্রীরামচন্দ্রের জন্মতিথি উপলক্ষে আয়োজিত এই উৎসবকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের এই প্রাচীন জনপদ এখন লক্ষাধিক ভক্ত ও পুণ্যার্থীর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
উৎসব
উপলক্ষে শুক্রবার দুপুরে মন্দির পরিদর্শন করেন রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী মনোজ কুমার। পরিদর্শন শেষে তিনি উপস্থিত ভক্তদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি বলেন, “ঐতিহাসিক এই মন্দিরের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ ধরনের উৎসব দুই দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।” তিনি আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
উৎসব
ও মেলা নির্বিঘ্ন করতে নওগাঁ জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নওগাঁর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, পুরো মন্দির এলাকাকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় এনে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
নিরাপত্তা
ব্যবস্থা তদারকিতে সরেজমিনে উপস্থিত ছিলেন মান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার শাওন এবং মান্দা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) গনি মিয়া। তারা জানান, বিপুল জনসমাগম সামলাতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কয়েকশ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ভক্তদের যাতায়াত সুগম করতে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ দলও কাজ করছে।
চৈত্র
মাসের শুক্লা নবমী তিথিতে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও শুক্রবার ভোরে মঙ্গলারতির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল থেকেই মন্দিরের প্রধান ফটকে ভিড় জমাতে শুরু করেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তরা। নাটোর থেকে আসা পুণ্যার্থী স্মৃতি রানী বলেন, “অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল রঘুনাথ জিউ মন্দিরে আসব। আজ পরিবারের সবাইকে নিয়ে পাশের জলাশয়ে পবিত্র স্নান সেরে শ্রীরামচন্দ্রের চরণে পুষ্পাঞ্জলি দিতে পেরে মনটা ভরে গেছে।”
বগুড়া
শহর থেকে আসা সুমন কুমার সাহা জানান, “প্রশাসনের সহযোগিতায় এবং স্বেচ্ছাসেবকদের কারণে এত ভিড়েও কোনো সমস্যা হয়নি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পূজা দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।” নওগাঁ ছাড়াও রাজশাহী, নাটোর, বগুড়া ও জয়পুরহাটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ এখানে সমবেত হয়েছেন।
উৎসবের
সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে মেলা কমিটির সভাপতি শ্রী সন্তোষ কুমার বলেন, “ঐতিহ্যবাহী এই মেলা উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় মিলনমেলা। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে আমরা পানি, স্যানিটেশন ও শৃঙ্খলার ওপর সর্বোচ্চ জোর দিয়েছি।”
মন্দির
কমিটির বর্তমান সভাপতি শ্রী চন্দন কুমার মৈত্র এবং সাধারণ সম্পাদক শ্রী পরেশ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, “এ বছর লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটেছে। শত শত স্বেচ্ছাসেবক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জেলা পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় উৎসবটি অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে পালিত হচ্ছে।”
মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাম নবমীর মূল পূজা আজ অনুষ্ঠিত হলেও মেলার এই আনন্দ ও আমেজ আগামী কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হবে।

