আরাকান আর্মির কবল থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরলেন ১৪ জেলে
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:৫০
মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির হাতে আটক থাকা ১৪ বাংলাদেশি জেলে মুক্ত হয়ে দেশে ফিরেছেন।
গতকাল মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত ১০টার দিকে তিনটি নৌকায় তারা কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম নৌঘাটে এসে পৌঁছান বলে জানিয়েছেন টেকনাফ দুই বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া।
ফেরত আসা জেলেরা হলেন - মোস্তাফিজুর রহমান (৪০), ফরিদ হোসেন (৩০), রবিউল হাসান (১৭), আবুল কালাম (৩০), মীর কাশেম আলী (৪০), গিয়াস উদ্দিন (২৫), সালাউদ্দিন (১৮), মহিউদ্দিন (২২), হোসেন আহমদ (৩৮), কালু মিয়া (৫৫), আবু তাহের (৪০), আবদুল খালেক (৪০) জাবের মিয়া (২৪) ও রহিম উল্লাহ (২০)। তারা সবাই শাহপরীর দ্বীপের মাঝের পাড়া ও ডাঙ্গর পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবদুল মান্নান বলেন, শনিবার টেকনাফের নাফ নদী সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকা থেকে গুলি ছুঁড়ে তিনটি নৌকাসহ ওই জেলেদের ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। তিন দিন পরে রাতের আধারে তারা ফিরে এসেছে। তবে তারা কিভাবে মুক্তি পেয়েছেন, অর্থ বা কোনো ধরণের মুক্তিপণ দিতে হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন বলে জানান তিনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
যদিও স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ রয়েছে, আরাকান আর্মিকে খাদ্যদ্রব্য ও অর্থ প্রদানের ফলেই তারা মুক্তি পেয়েছে। কিন্তু ফিরে আসা জেলেরাও এ বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ।
ফেরত আসা জেলে মোস্তাফিজুর রহমান জানান, জোয়ার-ভাটার স্রোতে দিকভ্রান্ত হয়ে তারা অনিচ্ছাকৃতভাবে মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকে পড়েন। এ সময় আরাকান আর্মির সদস্যরা তাদের আটক করে এবং হেফাজতে রেখে নির্যাতন চালায়। তিনদিন পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
আরেক জেলে রহিম উল্লাহ জানান, ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের মারধর করা হয়েছে এবং কোনো খাবার দেওয়া হয়নি। তাদের নৌকার মাঝি কালু মিঞা গুরুতর আহত হয়েছেন, তবুও জীবিত ফিরে আসতে পেরে তারা স্বস্তিবোধ করছেন।
জেলে মহিউদ্দিনের মা রশিদা খাতুন বলেন, আমার তিন ছেলেসহ পরিরারের পাচঁজন ফিরে এসেছে। এর চেয়ে আনন্দের কী আর হতে পারে। তাদের ধরে নিয়ে যাওয়ার পর আমাদের খুব দুঃশ্চিন্তায় ছিলাম। এখন চিন্তা মুক্ত হয়েছি। তবে ছেলেরা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে, তাদের জন্য দোয়া করবেন।
শাহ পরীর দ্বীপ পশ্চিম পাড়া জেলে সমিতির সভাপতি আব্দুল গফুর বলেন, আরাকান আর্মির হাতে আটক হওয়া জেলেরা তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। তবে এতে অল্প সময়ে আরাকান আর্মির হাত থেকে মুক্তির বিষয় এই প্রথম।
বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, তিনটি নৌকাসহ ১৪ জন জেলে ফিরে এসেছেন। তারা কীভাবে ফিরেছেন, সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

