ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে “উমেন কার্নিভাল ২০২৬”, যা আয়োজন করে নন্দিতা সুরক্ষা। দিনব্যাপী এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৩০০ জন নারী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিত্বকারী অংশগ্রহণকারী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। দ্যা এশিয়া ফাউন্ডেশন ও এফসিডিও-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠান নারীর ক্ষমতায়ন, নেতৃত্ব এবং সামাজিক পরিবর্তনে তাদের ভূমিকা তুলে ধরার এক গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিষয়ক অধিদফতর, ফরিদপুর-এর উপপরিচালক মাসউদা হোসাইন এবং দ্যা এশিয়া ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি সাজ্জাত হোসাইন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে একটি মনোমুগ্ধকর স্বাগত নৃত্য পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। এরপর অতিথিদের ফুলেল শুভেচনার মাধ্যমে বরণ করে নেওয়া হয়।
নন্দিতা সুরক্ষার প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি তার স্বাগত বক্তব্যে প্রকল্পের উদ্দেশ্য, কার্যক্রম এবং নারীদের নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই আয়োজন শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি নারীদের শক্তি, সাহস, স্বপ্ন এবং সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী নারীদের মধ্য থেকে শিলা বিশ্বাস (জেলে কমিউনিটি) ও নিশাত নাবিলা (ছাত্রী) তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি শেয়ার করেন। তাদের বক্তব্যে উঠে আসে নারীদের সংগ্রাম, চ্যালেঞ্জ এবং এগিয়ে যাওয়ার গল্প।
মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি তাদের মতামত, অভিজ্ঞতা এবং প্রত্যাশা তুলে ধরেন প্রধান অতিথির সামনে। এতে নারীদের বাস্তব সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে একটি প্রাণবন্ত আলোচনা সৃষ্টি হয়।
বিশেষ অতিথি মাসউদা হোসাইন তার বক্তব্যে নারীর অধিকার ও উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ তার বক্তব্যে নারীদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নারীরা শুধু সমাজের অংশ নয়, বরং পরিবর্তনের চালিকাশক্তি।
অনুষ্ঠানের মধ্যবর্তী সময়ে দুপুরের খাবার ও নামাজের বিরতির পর বিকেলে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ সেশন অনুষ্ঠিত হয়। মেডিনোভা হাসপাতালের মেন্টাল হেলথ কাউন্সেলর রিসালাতুন নাহার রিনা এই সেশন পরিচালনা করেন, যেখানে নারীদের মানসিক সুস্থতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শেষ অংশে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। গান, নাচ ও বিভিন্ন পরিবেশনার মাধ্যমে উদযাপন করা হয় নারীর সৃজনশীলতা ও শক্তি।
আয়োজকরা জানান, এই নারীদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, সচেতনতা এবং পারস্পরিক সংযোগ বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানটি একটি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে—নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে, নেতৃত্ব দিচ্ছে এবং সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বিকে/মান্নান

