Logo

সারাদেশ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ৬ বাংলাদেশি নিহত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

Icon

ফরিদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:১১

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ৬ বাংলাদেশি নিহত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ছয়জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ‘তার মধ্যে তিনজনের মরদেহ দেশে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে রেমিট্যান্স যোদ্ধারা প্রবাসে নিরাপদে জীবনযাপন ও কাজ করতে পারেন। তার জন্য সরকার সবসময় সতর্ক ও সক্রিয় রয়েছে।’ বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের প্রায় সব দেশেই জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। অনেক দেশে তা দ্বিগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে জ্বালানি তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে বাংলাদেশে এখনো জ্বালানির দাম বাড়েনি, যা বর্তমান সরকারের একটি সাফল্য বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকার চেষ্টা করছে যেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ভালো থাকতে পারে এবং যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও কোনো সমস্যায় না পড়ে।

তিনি আরও বলেন, জনগণকে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তা করতে হবে। ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় রেখে জ্বালানি তেলের দামে কিছু সমন্বয় (অ্যাডজাস্টমেন্ট) আসতে পারে। তবে তা অবশ্যই জনগণের স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে করা হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যার প্রভাব সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের ওপর পড়ছে। যুদ্ধের কারণে দেশের অর্থনীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তিনি সৌদি আরবে জনশক্তি প্রেরণের মাধ্যমে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করেন। তার সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি যখনই রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে, তখনই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে।

বিএনপির এই নেত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কারণে যুদ্ধকালেও ইরানসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে মূল্যায়ন করছে। ফলে প্রবাসীরা সেখানে নিরাপদে আছেন এবং প্রয়োজনীয় তেল ও গ্যাস আমদানিতেও কোনো বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়নি।

নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এর আগেও তিনি এখানে এসেছিলেন এবং তখনো পরিস্থিতি সন্তোষজনক ছিল না। বর্তমান অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক বলে তিনি উল্লেখ করেন। মানদণ্ড অনুযায়ী এই হাসপাতাল কোনো পর্যায়েই পড়ে না। এখানে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল সংকট রয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন মো. মাহমুদুল হাসান, নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী শরীফ, যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাসুদসহ অন্যরা।

পরে তিনি নগরকান্দা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, নগরকান্দা ভূমি অফিস, সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন।


বাংলাদেশের খবর/এইচআর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন