জ্বালানি সরবরাহে ধাক্কা
বন্ধের ঝুঁকিতে ইস্টার্ন রিফাইনারি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২০:০৩
দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার কেন্দ্রে থাকা ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) এখন এক অনিশ্চিত বাস্তবতার মুখে। অপরিশোধিত তেলের চালান বিলম্বিত হওয়ায় শোধনাগারটির কার্যক্রম হঠাৎ করেই সংকুচিত হয়ে এসেছে, আর সেই সঙ্গে তৈরি হয়েছে সাময়িক বন্ধের আশঙ্কা।
শোধনাগার সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হাতে থাকা মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালালে এই মজুত দিয়ে আর কয়েকদিনের বেশি টিকে থাকা সম্ভব নয়। এ অবস্থায় উৎপাদনের গতি কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে, কিন্তু সেটি কেবল সময় কেনার মতোই।
এই সংকটের পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা দিচ্ছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ রুটের অস্থিরতা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা ও চলাচল সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়েও তেলের জাহাজ পৌঁছাতে পারছে না। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সরাসরি প্রভাব ফেলছে চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায়।
জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী বলেছেন, পরিস্থিতি জটিল হলেও নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। তার ভাষায়, “আমরা বিকল্প ব্যবস্থায় কাজ করছি। সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে—এমন আশঙ্কার কোনো কারণ নেই।”
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, একদিকে অপরিশোধিত তেলের চালান বিলম্বিত হলেও অন্যদিকে পরিশোধিত জ্বালানি আমদানি বাড়ানো হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে ইতোমধ্যে ডিজেলের কয়েকটি চালান পৌঁছেছে এবং আরও আসার পথে রয়েছে, যা তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা লাঘব করবে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে প্রভাব পড়বে শুধু জ্বালানির পরিমাণে নয়, গুণগত মানেও। বিশেষ করে ন্যাফথা সরবরাহ কমে গেলে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদনের মিশ্রণ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হবে, যার প্রভাব পড়তে পারে সরাসরি বাজারে।
এদিকে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে ইতোমধ্যে চাপ বাড়তে শুরু করেছে। অনেক চালক আগাম জ্বালানি সংগ্রহে ঝুঁকছেন, ফলে কিছু জায়গায় অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি সরবরাহ ভেঙে পড়ার ইঙ্গিত নয়, বরং আতঙ্কজনিত আচরণের ফল।
খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, এই পরিস্থিতি দেশের জ্বালানি খাতের কাঠামোগত দুর্বলতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। একটি মাত্র পুরনো শোধনাগার এবং নির্দিষ্ট উৎসের ক্রুড অয়েলের ওপর নির্ভরশীলতা—এই দুইয়ের সমন্বয়েই ঝুঁকি বেড়েছে।
ব মিলিয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নির্ভর করছে সমুদ্রপথে আটকে থাকা জাহাজগুলোর ওপর। সময়মতো সেগুলো পৌঁছালে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারে, আর দেরি হলে চাপ আরও বাড়বে—এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

