নওগাঁর বদলগাছিতে জমিজমা নিয়ে শত্রুতার জেরে একটি মা ছাগলকে কোদালের গোড়ালি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ রবিবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছাগলটি মারা যায়। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বিলাসবাড়ী ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে। ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগমের দাবি, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশী আব্দুর রশিদ এই অমানবিক ঘটনা ঘটিয়েছেন।
স্থানীয় ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ফাতেমা বেগমের সঙ্গে আব্দুর রশিদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছে। গত শনিবার সবার অগোচরে আব্দুর রশিদ ফাতেমা বেগমের একটি উন্নত জাতের মা ছাগলকে লক্ষ্য করে কোদালের গোড়ালি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। আজ রবিবার সকালে যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে ছাগলটি মারা যায়। মারা যাওয়া মা ছাগলটির দুটি ছোট বাচ্চা রয়েছে।
ভুক্তভোগী ফাতেমা বেগম বলেন, “মানুষের সাথে মানুষের শত্রুতা থাকতে পারে, কিন্তু এই অবলা প্রাণীটার অপরাধ কী ছিল? দুটি ছোট বাচ্চাকে রেখে মা ছাগলটাকে এভাবে পিটিয়ে মারা হলো। আমি এই নিষ্ঠুর ঘটনার বিচার চেয়ে থানায় ও ইউএনও সাহেবের কাছে অভিযোগ দিয়েছি।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রশিদ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি এই ছাগল হত্যার সাথে কোনোভাবেই জড়িত নই। জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় প্রতিপক্ষ আমাকে ফাঁসাতে এবং মূল ঘটনাকে অন্য খাতে প্রবাহিত করতে এই মিথ্যা ষড়যন্ত্র করছে।”
জানতে চাইলে বদলগাছি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, “একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে জমি নিয়ে আক্রোশ মেটাতে একটি নির্বাক প্রাণীর ওপর এমন পাশবিক হামলার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দুটি মাতৃহীন বাচ্চার আর্তনাদ দেখে স্থানীয়রা এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিকে/মান্নান

