নেত্রকোনার মদনে অবৈধভাবে নদীর পাড় কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নদীর পাড়সহ কৃষি জমির টপসয়েল অবাধে কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের চোখের সামনেই এমন কর্মকাণ্ড চললেও অদৃশ্য কারণে নিরব রয়েছে প্রশাসন।
স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন
ধরে ফতেপুর ইউনিয়নের হাটশিরা বাজারের পাশে নদীর পাড়সহ ফসলি জমির টপসয়েল কেটে বিক্রি
করা হচ্ছে। আর এই কার্যক্রম পরিচালনা করছেল ফতেপুর গ্রামের আসাদ মিল্কি নামের এক ব্যাক্তিসহ
কয়েকজন।
গতকাল সোমবার সরজমিন দেখা গেছে, মাটি বিক্রির
চক্রটি এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় প্রকাশ্যে তাদের বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে নারাজ। এদিকে
অবৈধভাবে মাটি বিক্রি ও টপসয়েল কাটার বিরুদ্ধে অভিযান করলে প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান
দেয় মাটিকেকুরা। এছাড়া অদৃশ্য কারণে প্রশাসনও নীরব ভূমিকায় থাকায় প্রভাবশালী মহলটি
অবাধে মাটি বিক্রি করে আসছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন হাটশিরা বাজারের
আশপাশ দিয়ে মাটি ভর্তি ১৫/২০ টি লরি ট্রাক্টর চলছে। এসব ট্রাক্টরের কারণে এলাকার রাস্তাঘাট
দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দিন রাত এভাবে মাটি বহনের ফলে যেমন পরিবেশ দূষণ হচ্ছে তেমনি
বাড়ছে দুর্ঘটনা। অবৈধভাবে মাটি বিক্রি বন্ধের দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন
স্থানীয় সচেতন মহল।
জানতে চাইলে মাটি বিক্রির পরিচালনাকারী
আসাদ মিল্কী জানান, আমরা নদীর পাড়ের ফসলি জমির মাটি কাটছি। তবে নদীর পাড় কাটছি না।
মাটি বিক্রির অনুমতি আছে কি না সে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দেননি।
ফতেপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মির্জা
মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মাটি কাটার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। কিভাবে মাটি কাটছেন
সে বিষয়টি জানতে বেকুর কাছে অফিসের পিয়নকে পাঠাচ্ছি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বেদবতী
মিস্ত্রী জানান, ফতেপুর ইউনিয়নে মাটি কাটার বিষয়টি আমি শুনেছি। মাটি কাটা বন্ধ করতে
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছি।
বাংলাদেশের
খবর/এম.আর

