নওগাঁ সদর হাসপাতালে রোগীর ভিড় চিকিৎসা দিতে হিমশিম অবস্থা
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৫৯
নওগাঁয় গত কয়েক দিনের তীব্র গরম ও আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে জনস্বাস্থ্যের চরম অবনতি ঘটেছে। আবহাওয়া পরিবর্তনের প্রভাবে জেলাজুড়ে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন ঋতুভিত্তিক রোগব্যাধি। এর ফলে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় অতিরিক্ত রোগীর চাপে হাসপাতালটিতে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার রোগী সেবা নিচ্ছেন। ইনডোরেও ধারণক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। রোগীর চাপের কারণে বেড সংকটে অনেককে হাসপাতালের মেঝে ও বারান্দায় থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডাঃ আবু জার গাফফার জানান, হাসপাতালে বর্তমানে যে রোগীর ভিড়, তার অধিকাংশই আবহাওয়া পরিবর্তন ও অতিরিক্ত গরমজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে আসছেন। তিনি বলেন, “তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে শিশুদের নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া এবং বড়দের ভাইরাস জ্বর ও শ্বাসকষ্টের প্রকোপ বেড়েছে। সীমিত জনবল দিয়ে এই বিশাল সংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।”
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডেই রোগীদের ভিড়। সদর উপজেলার দুবলহাটি থেকে আসা এক রোগীর স্বজন রহিমা বেগম বলেন, “ছেলের প্রচণ্ড জ্বর আর বমি হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। কিন্তু ওয়ার্ডে কোনো বেড খালি না থাকায় বারান্দার মেঝেতে চাদর বিছিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। গরমে সুস্থ মানুষই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।”
সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডাঃ আমিনুল ইসলাম বলেন, “মূলত প্রচণ্ড গরম ও আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা পুরো জেলার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সদর হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে পর্যাপ্ত ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হয়েছে।” তিনি এই সময়ে সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা, প্রচুর পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পান করা এবং শিশুদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্স ও অন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন।
বিকে/মান্নান

