Logo

সারাদেশ

পাহাড়ে বৈসুর সুরে নৃত্যের তালে মত্ত ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী

Icon

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২১:১২

পাহাড়ে বৈসুর সুরে নৃত্যের তালে  মত্ত ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী

 পুরাতন বছরকে বিদায় আর নতুন বছরকে বরণে একটি বছর অপেক্ষায় থাকে পাহাড়ে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী। খাগড়াছড়িতে বৈসু উৎসবকে ঘিরে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী নতুন বছকে বরণে গরয়া দেবতার উদ্দেশ্যে এই নৃত্য পরিবেশন করেন। বৃহস্পতিবার সকালে খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হল প্রাঙ্গনে ‘ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদ এর আয়োজনে বৈসুর ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ডিসপ্লে পরিবেশ করা হয় । বর্ণিল এই আয়োজনে সামিল হয়েছে বিভিন্ন বয়সীর নারী-পুরুষ।  

 জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর নারী - পুরুষ তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাকে গরয়া নৃত্যে অংশ নেয়। এতে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন, গরয়া দেবাকে সন্তুষ্ট করে পুরাতন বছরের সব দুঃখ গ্লানি দিয়ে মুছে যাবে এবং নতুন বছর তাদের জীবনে সুখ- শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনবে। 

দীর্ঘ এক বছরের অপেক্ষা শেষে নতুন বছর বরণে নৃত্যে অংশ নিতে পেরে খুশি ত্রিপুরা জানাষ্ঠীর মানুষ।

নৃত্যে অংশ নেওয়া খনিরঞ্জন ত্রিপুরা জানান, আমি গরয়া দেবতার নৃত্যে দলের ওস্তাদ সেজেছি। আমার হাতে নাঠির মাথায় কাপড়ে ত্রিশুলে গরয়া দেবতা অধিষ্ঠিত। আমরা এই দেবতাকে নিয়ে প্রতিটি গ্রামে যাবো এবং নৃত্য পরিবেশন করবো। যেনো ঐ গ্রামে গরয়া দেবতা সবার জীবনে সুখ শান্তি বয়ে আনে।

ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক ডিসপ্লে অংশ নেওয়া সুষ্মিতা ত্রিপুরা জানান, মাত্র আর তিন দিন পর আমাদের ‘বৈসু’ উৎসব। তাই নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে পুরাতন বছরের সব দুঃখ গ্লানি কে বিদায় দিতে আমরা গরয়া নৃত্য পরিবেশনা করছি। এবং এই নৃত্যের মাধ্যমে আমরা আমাদের ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরে রাখার চেষ্টা করি। আমরা প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় গরয়া দেবতাকে নিয়ে গিয়ে পূজা করবো। তাদের সকলের যেনো মঙ্গল হয়। অনাগত আগামীদিনগুলো যেন সুখের হয়।

বৈসু উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ধনেশ্বর ত্রিপুরা জানান, আমাদের এই আয়োজন সংস্কৃতির মাধ্যমে ঐক্যের বন্ধন রচিত হওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরো সুদৃঢ় হবে বলে মনে করি।

বৈসু উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক শুভ্রদেব ত্রিপুরা বলেন, ত্রিপুরাদের হাজার বছরের নিজস্ব সংস্কৃতি,ভাষা ,সংগীত ,নৃত্যসহ হারানো সংস্কৃতিকে তুলে ধরার জন্য এমন আয়োজন। 

 খাগড়াছড়ি পৌর টাউন হল প্রাঙ্গণ থেকে গরয়া নৃত্য পরিবেশন শেষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার শুভ উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা।

শোভাযাত্রায় ত্রিপুরাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক আর অলংকার পরে ঢোল বাদ্যের তালে তালে নৃত্য পরিবেশনা করে খাগড়াছড়ি শহরকে মাতিয়ে তোলে। এতে অংশ নেয় হাজারো ত্রিপুরা জনগোষ্ঠী।  

আগামী ১৩ এপ্রিল হাড়িবৈসুক এর মধ্য দিয়ে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে এবং  ১৪ ও  ১৫ এপ্রিল বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। 

বিকে/মান্নান
Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন