দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও জেট ফুয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে তিনটি বড় জাহাজ।
এর মধ্যে দুটি জাহাজে রয়েছে প্রায় ৬৮ হাজার টন ডিজেল এবং একটিতে রয়েছে ১২ হাজার টন জেট ফুয়েল। গত মঙ্গলবার বিকেলের পর থেকে রাত পর্যন্ত এসব জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছায়।
গতকাল বুধবার সকাল থেকেই এসব তেল খালাসের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে বন্দর ও শিপিং এজেন্ট সূত্রে জানা গেছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার পতাকাবাহী ট্যাংকার ‘লুসিয়া সোলিস’ প্রায় ৩৪ হাজার ৯৯১ টন ডিজেল নিয়ে গত মঙ্গলবার বিকেলে বহির্নোঙরে ভিড়েছে। জাহাজটি গতকাল বুধবার দুপুর নাগাদ পতেঙ্গার ডলফিন জেটিতে ভেড়ে।
অন্যদিকে, ডেনমার্কের পতাকাবাহী ‘টর্ম দামিনি’ প্রায় ৩২ হাজার ৯৩৫ টন ডিজেল নিয়ে রাতে বন্দরে এসে পৌঁছায়। জাহাজ দুটির স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে প্রাইড শিপিং।
প্রাইড শিপিংয়ের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম জানান, ‘লুসিয়া সোলিস’ জেটির দিকে রওনা হয়েছে এবং ‘টর্ম দামিনি’ থেকে বর্তমানে লাইটারিং কার্যক্রম বা ছোট জাহাজে তেল স্থানান্তরের কাজ চলছে।
প্রতিটি জাহাজ থেকে সম্পূর্ণ জ্বালানি তেল খালাস করতে প্রায় দুই দিন সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই দিনে আকাশপথের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিঙ্গাপুর থেকে ১২ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে ‘এমটি গ্রেট প্রিন্সেস’ নামে আরও একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে।
ডিজেল ও জেট ফুয়েলের এই বড় চালানগুলো বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাতের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশের জ্বালানি ব্যবহারের বড় অংশই ডিজেল নির্ভর, মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশ। পরিবহন থেকে কৃষি, শিল্প থেকে বিদ্যুৎ, সবখানেই এর চাহিদা প্রবল। বিপিসির হিসাবে, এপ্রিল মাসে মোট চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। সে হিসাব মাথায় রেখে মাসজুড়ে ধাপে ধাপে আমদানির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে মাসের শুরুতেই ৩ এপ্রিল দু’টি জাহাজে করে আসে মোট ৬১ হাজার টন ডিজেল। তবু চাহিদার চাপ পুরোপুরি কমেনি। ১ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার টন, দৈনিক গড় ১১ হাজার ১৩৮ টন।
১২ এপ্রিল পর্যন্ত সরবরাহযোগ্য ডিজেলের মজুত ছিল প্রায় ১ লাখ ১৯ হাজার টন, যা দিয়ে ১০ দিনের মতো চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। নতুন দু’টি চালান যুক্ত হলে এই সক্ষমতা আরও কয়েক দিন বাড়তে পারে, যদিও তা দীর্ঘমেয়াদে কতটা স্বস্তি দেবে, তা নির্ভর করছে পরবর্তী আমদানির ধারাবাহিকতার ওপর।
বিপিসি’র তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে দৈনিক প্রায় ১১ হাজার টনের বেশি ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে সরবরাহযোগ্য ডিজেলের মজুত ছিল ১ লাখ ১৯ হাজার টন, যা দিয়ে প্রায় ১০ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব ছিল। নতুন চালান যুক্ত হওয়ায় মজুত আরও ৪/৫ দিন বাড়বে।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, নির্ধারিত সরবরাহের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও জ্বালানি আনার চেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা আপাতত দেখা যাচ্ছে না।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসেছে, সামনে আরও আসবে। চুক্তিবদ্ধ সরবরাহকারীদের পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকেও তেল আমদানির চেষ্টা চলছে। চলতি মাসে জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই।
বাংলাদেশের খবর/এইচআর

