কুমারখালীর পেঁয়াজ হাটে অনিয়মের অভিযোগ
কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৩৩
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বিভিন্ন পেঁয়াজ হাটে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চলছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় কৃষকেরা। নির্ধারিত নিয়ম উপেক্ষা করে অতিরিক্ত ওজন ধরে পণ্য বিক্রি এবং বেশি খাজনা আদায়ের কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে জানান।
সোমবার উপজেলার পান্টি এলাকার চৌরঙ্গী মহাবিদ্যালয় মাঠে বসা সাপ্তাহিক হাটে দেখামিলে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা হাজারো কৃষক ও ব্যবসায়ী পেঁয়াজ কেনাবেচায় ব্যস্ত। এদিন হাটে কয়েক হাজার মণ পেঁয়াজ ওঠে এবং মানভেদে প্রতি মণ ৪৫০ থেকে ১৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়।
তবে কৃষকদের অভিযোগ, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী এক মণ সমান ৪০ কেজি হলেও এখানে ৪২ কেজিতে মণ ধরা হচ্ছে। ফলে প্রতিমণে অতিরিক্ত ২ কেজি পেঁয়াজ দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত খাজনা যেখানে ২ টাকা ৪০ পয়সা, সেখানে নেওয়া হচ্ছে প্রায় ২০ টাকা।
উপজেলার বাশগ্রামের এক কৃষক জানান, তিনি ১০ মণ পেঁয়াজ বিক্রি করেছেন, কিন্তু প্রতিটি মণেই ৪২ কেজি হিসেবে দিতে হয়েছে। এতে তার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেন আরও অনেক কৃষক। তাদের দাবি, হাটে কোনো কার্যকর তদারকি না থাকায় ইজারাদারদের নির্ধারিত নিয়মই মানতে হচ্ছে।
একজন শিক্ষক, যিনি নাম প্রকাশ করতে চাননি, বলেন—সঠিক নিয়মে হাট পরিচালিত হলে কৃষকরা এই ক্ষতির মুখে পড়তেন না। কিন্তু বাস্তবে তারা বাধ্য হয়ে অন্যায় নিয়ম মেনে নিচ্ছেন।
অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচা পেঁয়াজ শুকাতে গিয়ে ওজন কমে যায় বলেই বেশি কেজিতে মণ ধরা হচ্ছে। এতে তাদের ঝুঁকি কিছুটা কমে। তবে সরকারি নিয়ম সম্পর্কে অনেকেই অবগত নন বলে জানান তারা।
হাটের ইজারাদার মতিউর রহমান স্বীকার করেন, কাঁচা পেঁয়াজের ক্ষেত্রে ৪২ কেজিতে মণ ধরা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, হাটের ইজারার মূল্য প্রতিবছর বাড়ছে, সেই চাপ সামাল দিতেই খাজনা কিছুটা বেশি নেওয়া হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শুধু চৌরঙ্গী হাট নয়, উপজেলার অন্যান্য হাটেও একই পদ্ধতিতে পেঁয়াজ বিক্রি হয়। মৌসুমের শুরুতে ৪২ কেজি এবং পরবর্তীতে ৪১ কেজিতে মণ ধরা হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. কাওছার আলী বলেন, কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন—এমন তথ্য তার কাছেও এসেছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
কৃষকদের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে সঠিক ওজন ও নির্ধারিত খাজনা নিশ্চিত করা না হলে তারা আরও বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন।

