ছবি : বাংলাদেশের খবর
নতুন বছরের শুরুতেই মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কবলে পড়েছে উত্তরের হিমালয়কন্যা পঞ্চগড় । শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় জেলাটিতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরে সকাল ৯টায় তা আরও কমে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
চলতি শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে এই জেলার মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।
ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা চারপাশ
শুক্রবার ভোর থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল পঞ্চগড়ের প্রতিটি অঞ্চল। সড়কে যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যায়। ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে ঝরছে হিম শিশির। শহর থেকে গ্রাম—সবখানে শীতের কাঁপুনিতে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষ।
নিম্নআয়ের মানুষের দুর্ভোগ
শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভুগছেন দিনমজুর, ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ। স্থানীয় দিনমজুর হোসেন আলী বলেন, ‘কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসের কারণে ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। গরম কাপড়ের অভাবে কষ্ট বাড়ছে। এখনও কোনো কম্বল বা সাহায্য পাইনি।’
পাথর শ্রমিক জুয়েল জানান, ‘ভোর থেকে কাজ করতে হচ্ছে। ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা হাওয়ায় কাজ করা খুব কষ্টকর। দিনশেষে জ্বর-সর্দির মতো রোগে ভুগতে হচ্ছে। কিন্তু পরিবারের জন্য কাজ করতেই হবে।’
শীতজনিত রোগের প্রকোপ
শীতের কারণে জেলায় বেড়েছে শীতজনিত রোগের প্রকোপ। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন জ্বর, সর্দি, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
আবহাওয়া অফিসের পর্যবেক্ষণ
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ বাংলাদেশের খবরকে জানান, শুক্রবার ভোরে তাপমাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘন কুয়াশার কারণে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গত ১৩ থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা ছয়দিনও এমন শৈত্যপ্রবাহের মুখোমুখি হয়েছিল পঞ্চগড়।
সহায়তার দাবি
শীতের তীব্রতায় মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা ছাড়া এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। শীতবস্ত্র বিতরণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এসকে দোয়েল/এটিআর

