খাগড়াছড়িতে কালবৈশাখীর ঝড়ে কৃষকের ব্যাপক ক্ষতি
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২০:৩০
মঙ্গলবার হঠাৎ করে বয়ে যাওয়া তীব্র কালবৈশাখী ঝড়ে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলায় কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের সঙ্গে দমকা হাওয়ার কারণে পাকা ও আধাপাকা ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে, ফলে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।
জানা গেছে, খাগড়াছড়ির দীঘিনালা, মাটিরাঙ্গা ও পানছড়ি উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে বোরো ধান ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ উপড়ে পড়েছে এবং কৃষি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি সদরের কমলছড়ি, ভুয়াছড়ি, পেরা ছড়া, পান খাইয়া পারা বিল, নিউজিল্যান্ড পাড়ায় সবচেয়ে বেশি বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কৃষকরা ক্যজ্বরি মারমা জানান, মৌসুমের শেষ সময়ে এসে এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছিলেন, এখন সেই ঋণ পরিশোধ নিয়ে তারা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন।
স্থানীয় কৃষক চাইহ্লা প্রু মারমা বলেন, “আমরা অনেক কষ্ট করে ফসল ফলিয়েছি। কিন্তু এক ঝড়েই সব শেষ হয়ে গেল। এখন কীভাবে পরিবার চালাবো বুঝতে পারছি না।”
এদিকে উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন। তারা আশ্বাস দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিন জানান, এবারে পুরো জেলায় ১২হাজার ৬৭৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫৪ হাজার ৬৫৮ মেট্রিক টন। তবে কালবৈশাখী তাণ্ডবের খাগড়াছড়ি সদর ও বিভিন্ন উপজেলায় বোরো ধানের বেশি ক্ষতি হয়েছে। আমাদের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ করছেন কি পরিমান কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণের জন্য। আমরা কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরন করব। কর্তৃপক্ষ যদি আমাদের কৃষকদের জন্য কোনো প্রনোদনা দেন তাহলে তা আমরা পর্যায়ক্রমে সমভাবে বন্টন করবো।
খাগড়াছড়ি চলতি মৌসুমে পাকা ধানের মাত্র ৮শতাংক কর্তন করতে পেরেছেন কৃষকরা।
বিকে/মান্নাান

