চতুর্মুখী সঙ্কটে কৃষকরা
হবিগঞ্জে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ধানের কৃষকের স্বপ্ন
ফয়সল চৌধুরী, হবিগঞ্জ
প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ২১:১৫
অনুকূল আবহাওয়া, কৃষকের নিবিড় পরিচর্যা, যথাসময়ে জমিতে সার ও কীটনাশক প্রয়োগের কারণে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছিল হবিগঞ্জের হাওরগুলোতে। ধানের পাঁকা-আধা পাকা শীষ দেখে আনন্দে বুক ভরে উঠেছিল কৃষকের মন। আর নানা রকম স্বপ্ন নিয়ে বুক বেঁধেছিলেন কৃষকেরা। আগাম বন্যা, শ্রমিক,জ্বালানি সঙ্কট ও দামের কারণে তাদের স্বপ্ন যেন অধরা থেকে যাবে। শ্রমিক আর জ্বালানি সঙ্কটের কারণে কৃষকরা ধান কাটতে পারছে না। আরেকদিকে টানা বৃষ্টির কারণে জমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। এরইমধ্যে জেলায় প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে।
কয়েকদিনের টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে হাওরের পর হাওর ধানী জমি। চোখের সামনে ডুবছে তাদের একমাত্র কষ্টের ফসল। যেসব ধান কাটা হয়েছিল, সেসব মাড়াই ও শুকানো নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন সংকট। এ ছাড়া বৃষ্টির কারণে হাওরের মেঠোপথগুলো কর্দমাক্ত হয়ে পড়ায় কাটা ধান পরিবহন নিয়েও বিড়ম্বনায় পড়েছেন কৃষক। জলাবদ্ধতায় তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের ধানের খলা। একমাত্র ফসল বোরো ধান ঘরে তোলার আগেই এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ে হাওরপাড়ে নেমে এসেছে চরম বিষাদ। ফসল হারানোর আশংকায় কাঁদছে আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই ও নবীগঞ্জের কৃষকরা। এমন ক্ষতি আর সংকটের মুখে তাদের পড়তে হবে, ক’দিন আগেও ছিল ধারণার বাইরে।
প্রায় ১০/১২ দিন বোরো ধান কাটা শুরু হয়। ব্যস্ত ছিল হাওরের কৃষকেরা ধান কাটা। কিন্তু নতুন ফসল ঘরে তোলার আনন্দে মেতে ওঠার আগেই অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধ ও প্লাবিত হতে থাকে একের পর এক হাওর। ফলে ধান কাটা উৎসবের বদলে হাওরের কৃষক এখন বিষন্ন।
কৃষকেরা জানান, টানা বৃষ্টির কারণে খোয়াই, কুশিয়ারা, সুতাং, কালনী নদী এবং হাওরে প্রতিদিনই অস্বাভাবিকভাবে পানি বাড়ছে। এসব নদ-নদী উপচে পড়ে পানি হাওরে ঢুকছে। পানির তোড়ে একের পর এক হাওর তলিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া বৃষ্টির পানিতে অনেক হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। ফলে গত তিন দিনে শুধু আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই ও নবীগঞ্জ উপজেলায় তিন হাজার হেক্টরেরও বেশি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এদিকে পাকা ধান কাটা নিয়ে সংকটের মাঝেই কেটে আনা ধান মাড়াই ও শুকানো নিয়ে নতুন করে বিপদে পড়েছেন হাওরের কৃষক। অনেক জায়গাতেই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে কৃষকের ধানের খলা। ফলে খলায় স্তূপ করে রাখা কাটা ধান তারা মাড়াই করতে পারছেন না। এ ছাড়া যেসব ধান মাড়াই করা হয়েছে, সেগুলো শুকাতে পারছেন না। এ পরিস্থিতিতে কোনো ধানই ঘরে তুলতে পারছেন না কৃষক।
জেলা সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক দিপক কুমার দাস জানান, হাওর উপজেলাগুলোর কৃষি কর্মকর্তাগণ হাওর পরিদর্শন করছেন। জেলা থেকেও একাধিক কৃষি কর্মকর্তা বিভিন্ন উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত হাওর পরিদর্শন করছেন। বুধবার দুপুর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাওরের ২৭ শত ১০ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন- জেলার কোথাও এখনো পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়নি। তবে যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে যেকোন মুহুর্তে পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হবে। তিনি আরও বলেন- গত ২৪ ঘন্টায় ১২৫ মিঃমিঃ বৃষ্টিপাত রের্কড করা হয়েছে।
বিকে/মান্নান

