নওগাঁর মান্দা উপজেলার অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র সাবাইহাট। এই হাটের প্রধান সড়ক সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণে সরকারের পক্ষ থেকে বড় অংকের বরাদ্দ দেওয়া হলেও ড্রেন নির্মাণ নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা। সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। ফলে বর্ষার আগে জলাবদ্ধতা নিরসন নিয়ে শঙ্কায় আছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাবাইহাট বাজারের ভেতর দিয়ে যাওয়া প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার সড়কটির সংস্কার কাজ বর্তমানে চলমান। ১ কোটি ৬৭ লাখ ২৮ হাজার ৬৪৩ টাকা ব্যয়ে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ চললেও সড়কের দুই ধারে ড্রেন নির্মাণের নির্ধারিত জায়গা দখল করে আছে অসংখ্য স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানঘর। এসব অবৈধ স্থাপনা না সরানোর ফলে ড্রেন খনন করা সম্ভব হচ্ছে না।
জানা গেছে, বাজারের ময়েজ দোকান থেকে সাবাইহাট পর্যন্ত মাত্র ২১০ মিটার ড্রেন নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২৫ লাখ ৫১ হাজার ৮১০ টাকা। কিন্তু প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির ছত্রছায়ায় সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা তৈরি করায় এই সামান্য অংশের কাজও এগোচ্ছে না।
স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সামসুল শেখ ও নাদের শাসহ কয়েকজন বলেন, “রাস্তা মেরামত হচ্ছে এটা ভালো কথা। কিন্তু ড্রেন না হলে এই রাস্তার স্থায়িত্ব ছয় মাসও হবে না। বৃষ্টির পানি নামতে না পারলে রাস্তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাবে। উচ্ছেদ করে ড্রেন করা এখন সবচেয়ে জরুরি।”
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মিলন জানান, ড্রেন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গায় বেশ কয়েকটি দোকানঘর ও স্থাপনা রয়েছে। জায়গা খালি না হওয়া পর্যন্ত তারা কারিগরিভাবে কাজ শুরু করতে পারছেন না।
জানতে চাইলে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী আবু সায়েদ বলেন, “সাবাইহাটের উন্নয়ন প্রকল্পটি এই এলাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ড্রেন নির্মাণের জায়গায় কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। আমরা বিষয়টির দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি।”
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, “সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই। সাবাইহাট বাজারের অবৈধ স্থাপনাগুলো ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। জনস্বার্থে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ড্রেন নির্মাণের পথ প্রশস্ত করা হবে।”
সচেতন নাগরিকদের দাবি, প্রতি বছর জলাবদ্ধতার কারণে সাবাইহাটে লাখ লাখ টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়। কোটি টাকার সড়কটির স্থায়িত্ব রক্ষায় দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ড্রেন নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা এখন সময়ের দাবি।
বিকেৎমান্নান

