কাহালুতে প্রযুক্তির ছোঁয়াই বদলে যাচ্ছে কৃষি
কাহালু (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ মে ২০২৬, ২০:৪৫
বগুড়ার কাহালুতে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়াই বদলে যাচ্ছে কৃষি। কম্বাইন হারভেষ্টার মেশিনে চলছে বোরো ধান কাটা মাড়াই। পাকা ধান ঘরে তুলতে এই হারভেষ্টার মেশিনের ব্যবহার কৃষকদের অনেকটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটেছে।
প্রাচীন পদ্ধতির চাষাবাদের বদলে যান্ত্রীকীকরণে দিনদিন বদলে যাচ্ছে কৃষি। ধান কাটা মাড়াইয়ে শ্রমিক সংকটে কৃষক যখন দিশেহারা, তখন এই আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার
অনেকটা স্বস্তি দিয়েছে কৃষক মনে। এটির ব্যবহারে
একদিকে যেমন খরচের স্বাশ্রয় হচ্ছে,
অন্যদিকে কম সময়ে খুব সহজেই নির্বিঘ্নে ধান ঘরে তুলতে পারছেন কৃষক।
শ্রমিক দিয়ে এক বিঘা জমির ধান কাটতে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা
খরচ হচ্ছে। আর হারভেষ্টার মেশিনে আড়াই থেকে
৩ হাজার টাকায় সময় লাগছে মাত্র ১৫-২০ মিনিট।
খড় থেকে ধান আলাদা হয়ে ডেলিভারি পাইপ দিয়ে বস্তায় ভরে ধান সহজেই ঘরে তুলছেন
কৃষক। তবে খড় জমিতেই থাকছে। উপজেলার নারহট্র
গ্রামের কৃষক মোঃ সানোয়ার হোসেন বলেন, সঠিক সময়ে শ্রমিক না পাওয়া ও শ্রমিকের মূল্য বেশি হওয়ায় হারভেষ্টার মেশিন দিয়ে ধান কাটা
মাড়াই করছি। এতে খরচ কম হচ্ছে।
বোরো মৌসুমে কৃষকদের ধান উৎপাদন করতে সেচ,
জমি চাষ, সার, কীটনাশক সহ নানা খরচের ব্যয় বহন করতে হিমশিম খেতে হয়। পাকা ধান ঘরে তুলতে
কৃষককে চরম সংকটে পড়তে হয় শ্রমিক সংগ্রহে। শ্রমিক খুঁজতে হণ্যে হয়ে রেলষ্টেশন,
বাসষ্ট্যান্ডে একজন কৃষককে ঘন্টার পর ঘন্টা
সময় ব্যয় করতে হয়। এমনকি দিনও চলে যায়। শ্রমিক না পেয়ে হতাশায় বাড়ি ফিরতে হয়।
ক্ষেতে ধান পেকে গেলেও শ্রমিক সংকটের কারণে
উপযুক্ত সময়ে ধান ঘরে তুলতে পারেনা
কৃষক। এমন বাস্তবতায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে কৃষিতে আমল পরিবর্তন এনেছে ধান কাটা
মাড়াইয়ের মেশিন কোম্বাইন হারভেষ্টার। সময়ের চাহিদা অনুযায়ী কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির
ব্যবহার জমি চাষ,ধান রোপণ, নিড়ানি, কাটা মাড়াই এক যুগান্তকারি পদক্ষেপ বলে মনে করছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জান্নাতুল ফেরদৌস
জানান, ইতিমধ্যে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায়
উপজেলায় ১২ জন কৃষককে ভূর্তকি মূল্যে কম্বাইন হারভেষ্টার মেশিন প্রদান করা হয়েছে। শ্রমিক
সংগ্রহে দুর্ভোগ এড়াতে ও সহজে ধান কাটা মাড়াইয়ে কৃষকরা হারভেষ্টার মেশিনের প্রতি বেশি
আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

