ভূমিদস্যুদের কবলে ঐতিহ্যবাহী কাটেঙ্গা বিল
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ০১ জুন ২০২৬, ২১:০৮
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী কাটেঙ্গা বিল এখন অবৈধ দখল ও ভরাটের শিকার হয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী ভূমিদস্যু চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিলের বড় অংশ দখল করে ভরাটের মাধ্যমে কৃষিজমিতে রূপান্তর করছে।
এতে স্থানীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ
মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। একসময় খাল ও ছড়ার পানি এসে জমা হতো কাটেঙ্গা বিলে।
সেই পানি ধীরে ধীরে ভাটির দিকে নেমে যেত। কিন্তু বিলের বড় অংশ ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন
সামান্য বৃষ্টিতেই আশপাশের কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে, ফলে কৃষকদের ফসল নষ্ট
হচ্ছে।
কাটেঙ্গা বিল ছিল দেশীয় নানা প্রজাতির
মাছের নিরাপদ আবাসস্থল। স্থানীয় মৎস্যজীবীরা এখান থেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন।
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে আসা বিভিন্ন প্রজাতির পাখির খাদ্যের উৎসও ছিল এই বিল। শীতকালে
অতিথি পাখির আগমন ছিল নিয়মিত। কিন্তু অবৈধ দখল ও ভরাটের কারণে সেই জীববৈচিত্র্য আজ
হুমকির মুখে।
কাটেঙ্গা বিল রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক ও সাতছড়ি
জাতীয় উদ্যানের সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম আবুল বলেন, “এই বিল আমাদের
এলাকার ঐতিহ্যের অংশ। ছোটবেলার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে এখানে। প্রতি বছর চৈত্র মাসের
১ তারিখে আশপাশের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ একসঙ্গে মাছ ধরতে যেতাম। কিন্তু দখলদারদের
কারণে আজ বিলটি ধ্বংসের পথে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে বিল আর থাকবে না।”
আন্দিউড়া গ্রামের বাসিন্দা রিপন চৌধুরী
বলেন,“পরিকল্পিতভাবে
সংরক্ষণ করা গেলে শ্রীমঙ্গলের বাইক্কা বিলের মতো কাটেঙ্গা বিলও পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটনের
অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। এজন্য প্রথমেই
বিল ও সংযোগ খালগুলো খনন করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক করতে হবে।”
ভূমি অফিস সূত্র জানায়, আন্দিউড়া মৌজার
জে এল নং-৬৭, দাগ নং-৫৩৯৮ এর ১১.৪৯ একরের কাটেঙ্গা বিল সরকারি সম্পত্তি। প্রতি বছর
মৎস্যজীবীদের কাছে লিজ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও প্রভাবশালী দখলদারদের ভয়ে
গত প্রায় ২০ বছর ধরে কোনো মৎস্যজীবী সমিতি লিজ নিতে সাহস পায়নি। ফলে সরকারও রাজস্ব
থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত দখলমুক্ত করে
সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে কাটেঙ্গা বিল একদিন পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার
(ভূমি) মুজিবুল ইসলাম বলেন, “জলাভূমি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ। কাটেঙ্গা বিলের অবৈধ দখল ও ভরাটের বিষয়টি আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা
গ্রহণ করব।”
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

