বন্দরে পৌঁছানোর পর নিষেধাজ্ঞা ফেরত যাচ্ছে স্ক্র্যাপ জাহাজ
সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬, ২১:৩৯
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ায় প্রায় ৬১ কোটি টাকা মূল্যের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজ ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসএন করপোরেশন। চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আনোয়ারা উপকূলে অবস্থান করলেও জাহাজটিকে শিপইয়ার্ডে ভেড়ানোর অনুমতি দেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘মেমেই’ নামের পালাউ-পতাকাবাহী জাহাজটি ১৯৯৭ সালে নির্মিত। ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার জাহাজটি দীর্ঘদিন ধরে সমুদ্রপথে তেল ও রাসায়নিক পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। এর মালিকানা ছিল হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এভার শাইনিং লিমিটেডের কাছে।
চট্টগ্রামভিত্তিক জাহাজভাঙা শিল্প প্রতিষ্ঠান এসএন করপোরেশন স্ক্র্যাপ হিসেবে জাহাজটি ক্রয় করে। গত ২২ মে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। তবে আমদানির ছয় দিন পর প্রতিষ্ঠানটি জানতে পারে যে, ২৮ মে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এবং অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) জাহাজটিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে।
সূত্র জানায়, ইরানের পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ‘মেমেই’-এর বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে এভার শাইনিং লিমিটেডের মালিকানাধীন ‘ফ্লোরা’ নামের আরেকটি জাহাজও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ জোরদারের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী আদেশের আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো জাহাজটিকে শিপইয়ার্ডে ভেড়ানোর ছাড়পত্র দেয়নি। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে কেনা জাহাজটি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এসএন করপোরেশনের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার জানান, জাহাজটির ক্রয়মূল্য ছিল ৪৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬১ কোটি টাকার সমপরিমাণ।
তিনি বলেন, “জাহাজটি কেনার সময় এর ওপর কোনো আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ছিল না। কিন্তু দেশে পৌঁছানোর কয়েক দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানা যায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে জাহাজটি শিপইয়ার্ডে ভেড়ানোর সুযোগ না থাকায় মূল মালিকের কাছে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
বিকে/মান্নািন

