অন্যের বাঁশঝাড়ে অনাহারে কাটছে ষাটোর্ধ্ব মাহমুদ দম্পতির জীবন
তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ২১:১৪
দারিদ্রতা ও দুঃখ কষ্ট অনাহারে কাটছে দিন বৃদ্ধা দম্পতির। রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালি ইউনিয়নের ভুমিহীন অসহায় এক পরিবার,মাথা গোজার ঠাই না পেয়ে,বাশঁঝাড়ে পলিথিন মুড়ে দিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। উপজেলার উত্তর লক্ষিপুর পশ্চিম পাড়া গ্রামের মৃত্যু জছি উদ্দিন এর পুত্র ষাট উর্দ্ধো বৃদ্ধ মামুদ উদ্দিন ও তার স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম, মানুষের জমিতে আশ্রিত থেকে অভাবের সংসারে কোন রকম কৃষিকাজ করে দিন পার করছেন। কিন্তু জীবনের শুরুতেই শস্য ব্যবসায়ীর একান্ত ম্যানেজার হিসেবে কর্ম জীবন শুরু করেছিলেন মামুদ।পরে পার্শ্ববর্তী গংগাচড়া উপজেলার গঞ্জিপুর গ্রামের আবুল হোসেনের কন্যা মঞ্জুয়ারা বেগমের সাথে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক বিয়ে হয় তার। দাম্পত্য জীবনের শুরুতে সুখেই কাটছিলো তাদের দিন। সাংসারিক জীবনে মঞ্জুয়ারার কোল জুড়ে আশার আলো হয়ে আসে এক ছেলে ও এক মেয়ে। মামুদের মহাজন ব্যবসায়ে লোকসান করেন, মামুদ হারান চাকুরি। সংসারে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। মানুষের বাড়িতে কৃষিকাজ দিনমজুরের কাজ করে, তিনবেলা খেয়ে না খেয়ে ছেলে ও মেয়ে কে বড় করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে গেছেন মাহমুদ। ছেলে মেয়ে বড় হয়েছে, বসত ভিটার জমি বিক্রি করে দিয়েছেন মেয়ের বিয়ে,ছেলেও বিয়ে করে ঢাকা শহরে থাকেন। ছেলের সংসারেও অভাব অনটন,সাহায্য করতে পারেন না বাবা-মাকে। বয়স এখন ষাট উর্দ্ধো মামুদ দম্পতির। পারেন না অন্যের বাসায় কাজ করতে। আশেপাশের মানুষ দয়া করে যদি খাবার দেয়, তারা তা খায়, না দিলে না খেয়েই দিনরাত পার করেন অসহায় দম্পতি। মাথা গোজার শেষ সম্বল বসতভিটা ও থাকার ঘর না থাকায়। বাশেঁর ঝাড়ে পলিথিন মুড়ে দিয়ে তার ভিতরে সারারাত জেগে অভুক্ত অবস্থায় নির্ঘুম রাত কাটান,অসহায় মামুদ দম্পতি।
প্রতিবেশি জাকির বলেন,ঝড় বৃষ্টি রোদ অপেক্ষা করে এখানেই সংসার জীবন পেতেছে অসহায় এই দম্পতিটি। সরকারি সাহায্যের মাধ্যমে তাদের থাকার ঘর করে দেওয়া জরুরী বলে দাবী করেন তিনি।
২ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মানিক বলেন, অসহায় পরিবারটিকে সরকারি খাদ্য সহায়তার অধীনে নিয়ে আসার চেষ্টা করছি,তবে থাকার আশ্রয়স্থল ঘর নির্মাণে সরকার অথবা বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করছি।
এলাকাবাসীর দাবী,সরকার ও বিত্তবানরা যদি এগিয়ে আসেন তাহলেই এই মাহমুদ মঞ্জুয়ারা দম্পতির শেষ বয়সে মাথা গোজার একটি ঠাই হতে পারে।
বিকে/মান্নান

