কুশিকাটার পণ্য যাচ্ছে বিদেশে
স্বপ্ন হ্যান্ডিক্রাফটে স্বপ্ন বুনছেন ৬’শ নারী
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬, ২০:৫১
স্বামীরা টাকা আয় করবে আর স্ত্রীরা শুধু ঘরের কাজ করবে সে কি আর হয়? স্ত্রী একাধারে স্বামীর সঙ্গী, সন্তানের পরিচর্যাকারী, পরিবারের দক্ষ নার্স, ধোপা, বুয়া, ক্লিনার। এভাবে আর কতদিন। দিনদিন পরিবার বড় হচ্ছে। কিন্তু আয় বাড়ছেনা। তাইতো গ্রামের এই সকল দরিদ্র নারীদের স্বাবলম্বী করতে কাজ করে যাচ্ছেন স্বপ্ন হ্যান্ডিক্রাফট।
যার স্বত্তাধিকারী উদ্যোক্তা নাহিদ পারভিন
আখি। নাহিদ পারভিন আখি অস্টম শ্রেণিতে লেখাপড়া অবস্থায় কুশিকাটা দিয়ে বিভিন্ন রকমের
জিনিস তৈরীর কাজ শিখে ছিলেন। আর আজ বিবাহিত জীবনে স্বামীর সংসারে আয় বাড়াতে কাজ করে
যাচ্ছেন। এই কাজ তিনি এখন আর একা করেন না। তিন উপজেলার প্রায় ২০ গ্রামের ৬০০ নারী এখন
এই কাজ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। তাছাড়া কুশিটাকা আর সুতার তৈরী পণ্য রাজধানী ঢাকাসহ
ইতালি ও অস্ট্রেলিয়াতেও রপ্তানী করছেন।
বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার শালফা গ্রামের
সেলিম পারভেজের স্ত্রী উদ্যোক্তা নাহিদ পারভিন আখি জানায়, ৩ বছর আগে তার শ্বশুর বাড়ির
৬ জন নারীকে নিয়ে কুশিকাটার সাহায্যে সুতা দিয়ে বিভিন্ন জিনিস তৈরীর কাজ শুরু করেন
তিনি। এ সকল পণ্যের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দিন দিন স্বপ্ন হ্যান্ডিক্রাফটের কর্মীও বেড়ে
যায়।
শেরপুর উপজেলার শালফা, শুবলী, শুভগাছা,
গজারিয়া, বড়ইতলী, চালাভিটা, দশশিকা, নলডিঙ্গি, ঝাজর, শৈল্লাপাড়া, বোয়ালমারি, বোয়ালকান্দি,
জয়নগর, ধুনট উপজেলার বথুয়াবাড়ি, পেচিবাড়ি, বিলকাজুলি, তারাকান্দি, নবীনগর, মাঠপাড়া
ও কাজিপুর উপজেলার সোনামূখী গ্রামের প্রায় ৬০০ নারী এখন এই উদ্যোক্তার অধিনে কাজ করেন।
শালফা গ্রামের নারী উদ্যোক্তা তৃপ্তি জানান,
তারা টেবিল ক্লথ ৮০০ টাকা, সিঙ্গেল রানার ২৫০, ফ্লোর ম্যাট ৬০০, চেয়ার কভার ৮০০, চাদর
৩০০, শীতের সোয়েটার ৫০০, লেডিস ব্যাগ ২৫০, দরজা জানালার পর্দা ৩০০, কুসন কভার ৮০ টাকাসহ
বিভিন্ন জিনিস তৈরী করে আয় করছেন। এখন আর তাদের পরিবারের কাছ থেকে হাত পেতে টাকা নিতে
হয়না। বরং তারাই পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতায় সহযোগিতা করছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা
সুবির পাল বলেন, শালফা গ্রামের স্বপ্ন হ্যান্ডিক্রাফট আমি পরিদর্শন করেছি। তারা খুব
ভাল কাজ করছে। আমাদের কাছে তারা কোন সহযোগিতা চাইলে আমরা তাদের আইজিএ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে
সার্বিক সহযোগিতা করবো।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

