Logo

সারাদেশ

দেশজুড়ে খ্যাতি কুড়াচ্ছে ঘোড়াশালের সু-স্বাদু আনারস

Icon

মো. খায়রুল ইসলাম, নরসিংদী

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ২১:৩০

দেশজুড়ে খ্যাতি কুড়াচ্ছে  ঘোড়াশালের সু-স্বাদু আনারস




 নরসিংদীর ঘোড়াশালে আনারসের এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। স্বাদ ও গুণগত মানের কারণে সারা দেশে খ্যাতি কুড়াচ্ছে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালের রাবানের আনারস। নরসিংদীর একটি প্রবাদ আছে, ঘোড়াশালের রাবানের আনারস রসে টস টস। আনারস উৎপাদনের দিক থেকে ঘোড়াশাল বাংলাদেশের প্রসিদ্ধতম স্থান হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। ঘোড়াশাল পৌর এলাকার সিংহভাগ ও জিনারদী ইউনিয়নের প্রায় তিন চতুর্থাংশ জমি আবহাওয়ার দিক থেকে আনারস চাষের উপযোগী।

এ এলাকার কৃষকদের প্রধান অর্থকরী ফসল হচ্ছে আনারস। আনারস অন্যতম প্রধান রসালো, সুস্বাদু ও সুমিষ্ট ফল। এসব এলাকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা নির্বাহ ও অর্থকরী ফসল হচ্ছে একমাত্র আনারস চাষ।

পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েসা আক্তার জানান, প্রতি একর জমিতে প্রায় ১৮ হাজার আনারসের চারা রোপণ করা হয়। এই এলাকায় এ বছর ১৪৬ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ করা হয়েছে। আনারস চাষের এলাকাগুলো হচ্ছে- রাবান, কুড়াইতলী, বড়িবাড়ি,  কাটাবের, বরাব, ধলাদিয়া, গোবরিয়াপাড়া, লেবুপাড়া, সাতটিকা,  ও চরনগরদী। আনারস চাষি অনিল বসু ৬ বিঘা জমিতে, পরিমল দাস ৮ বিঘা জমিতে, তমা রায় ৪ বিঘা জমিতে, কবিতা রায় ৭ বিঘা জমিতে ও স্বর্ণালী রায় ৩ বিঘা জমিতে আনারস চাষ করেছেন। তাদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, তারা প্রায় ২০ বছর ধরে আনারসের চাষ করে আসছে।

প্রতি বিঘা জমিতে আনারস চাষে ২০ হাজার টাকা খরচ হলে আনারসের ফলন ভালো হলে প্রতি বিঘার আনারসে বিক্রি হয় প্রায় ৬০/৭০ হাজার টাকা। এতে দেখা যায় লাভ হয় বহু গুণ।

ঘোড়াশালের আনারস চাষ দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। আনারসের ফলন ভাল হলে প্রতি বছর আনারসে আয় হয় প্রায় ১২ কোটি টাকা। প্রতি একর জমিতে প্রায় ১৮ হাজার আনারসের চারা রোপণ করা হয়। ঘোড়াশালে পর্যাপ্ত পরিমাণ আনারস উৎপন্ন হয়।

আনারস চাষী অনিল বসু জানায়, আনারস পচনশীল ফল হিসেবে এর সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকা দরকার। আনারস সংরক্ষণের জন্য ঘোড়াশালে কোনো হিমাগার আজও পর্ষন্ত তৈরি হয়নি। কৃষকরা আনারস সংরক্ষণের জন্য একটি হিমাগার স্থাপনের জন্য সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান। ঘোড়াশালে আনারস চাষে চাষিদের মনোবল রয়েছে পর্যাপ্ত।

এ ব্যাপারে পলাশ উপজেলা কৃষি অফিসার আয়েশা আক্তার  জানান, এ বছর পলাশে ১৪৬ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১১ মে: টন আনারস উৎপাদন হয়ে থাকে। এ বছর ১ লাখ ৬০ হাজার ৬ মে: টন আনারস উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর অতি খরায়  আনারসের আকার ছোট ছিল। কিন্তু এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময় মত বৃষ্টি হওয়াতে আনারসের আকার বেশ বড় হয়েছে। আনারস চাষী তমা রায় জানান, একটি আনারস ৮শ’ গ্রাম থেকে দেড় কেজি পর্যন্ত একটা আনারসের ওজন হওয়ায় কৃষকরা এ বছর অধিক লাভের মুখ দেখতে পাবে। ঘোড়াশালের আনারস দেশের মধ্যে সুস্বাদু আনারস হিসেবে পরিচিত।

তিনি আরো জানান, অল্প সময়ে অধিক ফলন ও ব্যাপক লাভবান হওয়ায় মানুষ এ আনারস চাষের দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সারা দেশের মধ্যে পলাশের রাবান এলাকার জাতের আনারস একটা ব্রান্ড। এ জাতের আনারস সম্প্রসারনে উৎপাদন বৃদ্বিতে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।

বিকে/মান্নান




Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন