Logo

সারাদেশ

১৭ মামলায় কারাভোগ, তবুও যুবদলের মিটিতে ঠাঁই হয়নি

Icon

মাগুরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬, ২১:০৩

১৭ মামলায় কারাভোগ, তবুও যুবদলের   মিটিতে ঠাঁই হয়নি


 বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের নবগঠিত ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পাননি মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের সন্তান ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা মিজানুর রহমান সোহাগ। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রাম, ১৭টি মামলার আসামি হওয়া, চার দফায় কারাভোগ এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও গত বুধবার গঠিত ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিতে তার নাম না থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকাকালে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন সোহাগ। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ১৭টি মামলা হয়। এসব মামলায় তিনি চার দফায় গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় সাড়ে ৩০০ দিনের বেশি কারাভোগ করেন। এছাড়া একাধিকবার তাকে ডিটেনশন ও রিমান্ডেও থাকতে হয়েছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে পুলিশের গ্রেপ্তার এড়াতে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকতে হলেও দলীয় কর্মসূচিতে তার অংশগ্রহণ ছিল নিয়মিত। এমনকি একসময় নিজ এলাকা শ্রীপুরের কল্যাণপুর গ্রামের বাড়িতেও স্বাভাবিকভাবে যেতে পারতেন না তিনি।

শ্রীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মুন্সী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, মিজানুর রহমান সোহাগ ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে দলের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। মামলা, হামলা, জেল-জুলুম উপেক্ষা করে তিনি সংগঠনের জন্য কাজ করেছেন। এলাকার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল, এমন একজন ত্যাগী নেতাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে মূল্যায়ন করা হবে।

শ্রীপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুন্সী ইয়াসিন আলী সোহেল বলেন, সোহাগ ভাই আন্দোলন-সংগ্রামের কঠিন সময়ে কখনো রাজপথ ছাড়েননি। ছাত্রদলের একজন পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা হিসেবে তার সাংগঠনিক দক্ষতা ও অবদান সবার কাছেই পরিচিত। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতে দল তার ত্যাগ ও অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করবে।

মাগুরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন বলেন, মিজানুর রহমান সোহাগ   জাতীয়তাবাদী দলের দুর্দিনে  আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে মামলা-হামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েও তিনি রাজপথ ছাড়েননি। একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে তিনি অবশ্যই কেন্দ্রীয় যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদের দাবিদার ছিলেন।আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম নবগঠিত কেন্দ্রীয় যুবদলের কমিটিতে সোহাগ তার যোগ্যতা ও ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন পাবেন। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তিনি কমিটিতে স্থান পাননি। বিষয়টি শুধু তার ব্যক্তিগত পদবঞ্চনার নয়, বরং মাঠপর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যেও হতাশা সৃষ্টি করেছে। আমরা আশা করি, সোহাগের মতো ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের ভবিষ্যতে যথাযথ মূল্যায়ন করে এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দায়িত্ব দিয়ে তাদের সাংগঠনিক দক্ষতাকে কাজে লাগানো হোক।

পদবঞ্চনার বিষয়ে মিজানুর রহমান সোহাগ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আন্দোলনের কঠিন সময়ে যারা রাজপথে ছিলেন এবং দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছেন, আমার মতো তাদের অনেকেই এবার মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। যুবদলের যদি ১০ সদস্যেরও কমিটি হতো, সেখানেও আমার যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে থাকার যোগ্যতা ছিল। কিন্তু আমাকে পরিকল্পিতভাবে এবং ষড়যন্ত্র করে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, দলের জন্য আমি জেল খেটেছি, মামলা মোকাবিলা করেছি, আত্মগোপনে থেকেছি। তারপরও দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান করি। তবে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না হলে মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়।

এদিকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে সোহাগের নাম না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থক তার রাজনৈতিক ত্যাগ, কারাভোগ এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরে হতাশা প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ এটিকে ত্যাগী নেতাদের প্রতি অবমূল্যায়ন বলেও মন্তব্য করেছেন

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন