ঈশ্বরদীতে চলছে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলনের মহোৎসব
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ২১:১২
ঈশ্বরদীতে চলছে রাতের আঁধারে পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। কিন্তু প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বার বার। প্রতিরাতেই ড্রেজার দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার বালু উত্তোলন করা হচ্ছে অবৈধ ভাবে। অথচ উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন কাঙ্ক্ষিত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এই ক্ষেত্রে তাদের আন্তরিকতার অভাব রয়েছে বলেই বিজ্ঞজনেরা অভিযোগ করেছেন।
বিজ্ঞজনেরা অভিযোগ করেন যে, কুখ্যাত বালু খেকো বাহিনী দীর্ঘদিন থেকে পদ্মা নদীর ঈশ্বরদী এলাকায় ড্রেজার দিয়ে রাতের আঁধারে নির্বিচারে বালু উত্তোলন করছে। অথচ উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন ভাব দেখাচ্ছেন এবিষয়ে তাদের দায়ও নেই আবার কিছু জানাও নেই।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সন্ধ্যার কিছু পর থেকেই বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু করে এবং ভোরের দিকে ড্রেজার সড়িয়ে নেওয়া হয়। এমন লোকোচুরি খেলা চলছে হরহামেশাই। তাদের এই অনৈতিক বালু উত্তোলনের কারণে নদী রক্ষাকারী গাইডব্যাংক, হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালন শাহ সেতু এবং নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা প্রচন্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
দীর্ঘদিন থেকে পদ্মা নদীর বুকে এই বালু খেকো বাহিনী নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে বালু উত্তোলনের পাশাপাশি অবৈধভাবে চর দখল, চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা ইত্যাদির মাধ্যমে বিপুল অর্থের বাণিজ্য করছে। তাদের এসব অনৈতিক কর্মকান্ড নদীতীরবর্তী মানুষ গুলো প্রত্যক্ষ করলেও তাদের মুখ ফুটে বলার দুঃসাহস নেই।
মাঝে মধ্যেই এই বাহিনীর লোকজন গোলাগুলি করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। যেকারণে তারা মুখ খুলতে সাহস পান না।
এব্যাপারে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মোহাম্মদ শোয়ায়েব’কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি জানান, বালু উত্তোলনের বিষয়টি আমার জানা নেই। যতদ্রুত সম্ভব এব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিকে/মান্নান

