Logo

সারাদেশ

প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্যে মিলল না অভিযোগের সত্যতা

গাজীপুরে ম্যানেজিং কমিটির সভা ঘিরে হাবিবুরের বিরুদ্ধে মামলা

Icon

গাজীপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ২১:০৯

গাজীপুরে ম্যানেজিং কমিটির সভা ঘিরে হাবিবুরের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর সদর উপজেলার বাড়ীয়া ইউনিয়নের কুমুন সরাফত খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে থানায় দায়ের করা একটি মামলা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান খানের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য, হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সরকারের আইন অমান্যের ঘোষণা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হলেও, ঘটনাস্থলে উপস্থিত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্যে অভিযোগের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য অসঙ্গতি উঠে এসেছে।

থানায় দায়ের করা মামলার বাদী ওমর আলী সরকার দাবি করেন, গত ২০ জুন বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় অনুষ্ঠিত ম্যানেজিং কমিটি গঠনসংক্রান্ত সভায় তিনি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিলে চেয়ারম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করেন। অভিযোগে আরও বলা হয়, চেয়ারম্যানের নির্দেশে তাকে ও অপর একজনকে মারধর করা হয় এবং পরে প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।

তবে মামলায় অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা খুদিস্থা খাতুনের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে আসে।

তিনি জানান, ওইদিন বিদ্যালয়ের নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষ্যে একটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। বিধি অনুযায়ী অভিভাবক সদস্য নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছিল। আগ্রহী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় মতপার্থক্য সৃষ্টি হলেও তা আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। পরে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, বিষয়টি চূড়ান্ত করতে আগামী শনিবার পুনরায় সভা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধান শিক্ষিকার ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো সভা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ হয়। সভাকালে কোনো ধরনের হামলা, মারধর, হাতাহাতি, বিশৃঙ্খলা, উত্তেজনাকর পরিস্থিতি কিংবা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কোনো আপত্তিকর বা মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হয়নি। অভিযোগে যেসব ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, তার কোনোটি তার উপস্থিতিতে ঘটেনি বলে তিনি স্পষ্টভাবে জানান।

এদিকে বিবাদীপক্ষ অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দাবি করেছে, চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান খানসহ অন্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের দাবি, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিবাদীপক্ষ আরো জানান, তদন্ত হওয়ার আগেই মামলা দায়ের করা হয়। যেটা বিধানে নেই। 

অভিযোগপত্রে যেসব গুরুতর বিষয়-প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য, সরকারের আইন অমান্যের ঘোষণা, প্রকাশ্যে হামলা, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে-সেসব বিষয়ে বিদ্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্যে কোনো সমর্থন পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গেও কথা বলে জানা গেছে, ওইদিন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা হলেও অভিযোগে বর্ণিত ধরনের  অপ্রীতিকর ঘটনার বিষয়ে তারা নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

বাদীপক্ষ তাদের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে বিবাদীপক্ষও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, প্রকৃত তদন্ত হলে অভিযোগের অসারতা প্রকাশ পাবে।

বিশ্লেষকদের মতে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করতে পারে। তাই কোনো পক্ষের দাবি বা পাল্টা দাবিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা না করে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সাক্ষ্য, প্রয়োজনীয় আলামত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের খবর/আরইউ

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন