Logo

সারাদেশ

খাগড়াছড়িতে এখনো পানিবন্দি কয়েকটি গ্রাম

Icon

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ২০:১৫

খাগড়াছড়িতে এখনো পানিবন্দি কয়েকটি গ্রাম

সপ্তাহব্যাপী টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে খাগড়াছড়িতে। জেলার সড়কগুলোতে যান চলাচল স্বাভাবিক হলেও দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়ন ও মহালছড়ি উপজেলার কয়েকটি গ্রামে এখনো পানি নামেনি। ফলে এসব এলাকার প্রায় ১৪শ মানুষ এখনো পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তবে পানি নামতে শুরু করায় তাদের মধ্যে স্বস্তি কাজ করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল থেকে ধীরে ধীরে পানি নেমে যাচ্ছে। তবে পানি কমতে শুরু করলেও দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। অনেক পরিবার এখনো নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরী জানান, সৃষ্ট  বন্যায় পুরো জেলায় আউশ ও আমন ধান, গ্রীষ্মকালীন সবজি এবং বিভিন্ন ফলের বাগানসহ মোট ১ হাজার ৩১ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো কৃষির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপনে কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। পুরোপুরি পানি নেমে গেলে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের মাধ্যমে জানানো হবে জানিয়েছেন তিনি। এতে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দীঘিনালা উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের বাসিন্দা মো.রশিদ মিঞা বলেন, আমাদের এলাকায় এখনো পানি রয়েছে। ঘরে ফিরতে পারিনি। রান্না, বিশুদ্ধ পানি ও শিশুদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। আমরা আপাতত ছোট মেরুং আশ্রয় কেন্দ্রে আছি। সাহায্য সহযোগিতা যা পাচ্ছি তা দিয়ে কোনরকম দিন পার করছি। একই এলাকার কৃষক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, বন্যার পানিতে আমার আউশ ধান ও সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। এখন সরকারি সহায়তা না পেলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে।

গতকাল শনিবার বিকেলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেন বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।  এ সময় তিনি বলেন, সরকার বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা অব্যাহত থাকবে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, জেলার সার্বিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটা উন্নতি হয়েছে। অধিকাংশ সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি এখনো রয়েছে। তাই পাহাড়ের পাদদেশ ও নিম্নাঞ্চলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তিনি আরও জানান, প্রশাসনের ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বন্যায় প্লাবিত হওয়া এলাকায় খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ, জেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী - বিজিবি, জেলা বিএনপি সহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ত্রাণ সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে জেলায় থেমে থেমে হালকা গুড়িগুড়ি  বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ পাহাড়ের পাদদেশ ও নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিকে/মান্নান


Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন