অধ্যক্ষের দুর্নীতি
দুপচাঁচিয়য়া কারিগরি কলেজ বন্ধের উপক্রম
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬, ২০:২৩
বগুড়ার দুপচাঁচিয়া কারিগরি কলেজের অধ্যক্ষ মো. ছাইফুল ইসলাম সোনারের বিরুদ্ধে একই সময়ে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে আর্থিক অনিয়ম, এমপিওভুক্তির নামে অর্থ আদায়, প্রশাসনিক নথি নিজের হেফাজতে রাখা এবং দীর্ঘদিন কলেজ পরিচালনায় স্বে”ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে কলেজটির প্রশাসনিক কার্যক্রম ¯’বির হয়ে পড়েছে এবং নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রমও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। ¯’ানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক-কর্মচারী ও কলেজ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা না নিলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও বিপর্যস্ত হতে পারে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুপচাঁচিয়া কারিগরি কলেজের (কলেজ কোড: ২০০৬১) অধ্যক্ষ মো. ছাইফুল ইসলাম সোনার দীর্ঘদিন ধরে একই সঙ্গে কাহালু আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজেও প্রভাষক (ইনডেক্স নং: এন-৩০৯৭৯২৭) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সরকারি আর্থিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন। সরকারি বিধি-বিধান অনুসরণ না করেই তিনি দুই প্রতিষ্ঠানে একযোগে কর্মরত রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে কলেজ উন্নয়নের কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হলেও তার কোনো দৃশ্যমান প্রতিফলন নেই। ২০১৯ সালে কলেজ এমপিওভুক্ত হওয়ার পর শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কেউ এমপিওভুক্ত হননি। ফলে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী আর্থিক সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এছাড়া এমপিও সংক্রান্ত কার্যক্রমের কথা বলে শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল নিয়োগপত্র, যোগদানপত্র, শিক্ষাগত সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ নথি নিজের কাছে রেখে পরে তা ফেরত দিতে অর্থ দাবি করা হয়েছে।
এদিকে কলেজ এমপিওভুক্ত হওয়ার পর নিয়মিত পরিচালনা পর্ষদের সভা হয়নি এবং আয়-ব্যয়ের কোনো নিরীক্ষিত বা স্বচ্ছ হিসাবও শিক্ষক-কর্মচারীদের সামনে উপন্থাপন করা হয়নি।
বর্তমানে কলেজের রেজুলেশন খাতা, জমির দলিল, প্রশাসনিক পাসওয়ার্ড, উপবৃত্তির তথ্য, বিভিন্ন দাপ্তরিক নথি এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল সনদপত্র অধ্যক্ষের হেফাজতে থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে। এর ফলে শিক্ষার্থী ভর্তি ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমেও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে তিনি দুপচাঁচিয়া কারিগরি কলেজে প্রভাষক (কম্পিউটার) হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৪ সালে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরে ২০১৩ সালে পূর্ণাঙ্গ অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পান। এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় তার স্ত্রী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং নিকটাত্মীয় (চাচা) কে গভর্নিং বডির সভাপতি করা হয়েছিল। এতে স্বার্থের সংঘাত ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিকে/মান্নান

