Logo

সারাদেশ

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

Icon

নীলফামারী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬, ২১:০৩

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার  নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে

টানা অতি ভারী বর্ষণ ও ভারতের উজানের পাহাড়ি ঢলে ফের তিস্তা নদী ফের ফুঁসে উঠেছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ডিমলা ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি ৭ সেন্টিমিটার ওপরে ও সকাল ৯টায় ওই পানি ৩ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সর্বশেষ দুপুর ১২টায় বিপদসীমার (৫২ দশমিক ১০ সেঃ) ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় ওই পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ২৫) ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের পানি পরিমাপক (মিটার রিডার) মো. নুরুল ইসলাম জানান,উজানের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে বন্যার পানি উঠানামা করে। আজ সকাল ৬টায় বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার এবং পরে ৩ সেন্টিমিটার কমে সকাল ৯টায় বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আজ দুপুর ১২টায় ৫ সেন্টিমিটার নিজ দিয়ে তিস্তার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। অথচ গতকাল সন্ধ্যায় ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি হয়েছিল।

এদিকে, তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিন্মঞ্চলের বন্যার পানি প্রবেশ করে নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে  প্রায় ৬ হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। পানি কমলেও মানুষের দুর্ভোগ দিনের পর দিন বেড়েই চলছে।

উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন বলেন, ডিমলার পূর্বছাতনাই, গয়াবাড়ি, খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চলের পানি কিছুটা কমলেও ৬ গ্রামের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এসব পরিবারের অনেকেই নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও গবাদী পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে। তলিয়ে গেছে, নিন্মঞ্চলের রাস্তাঘাট, পুলকালভার্ট, শাকসবজি, বীজতলা, পুকুরের মাছ ও ফসলি জমি। এতে ক্রমেই বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, গতকাল সন্ধ্যা ৬ টায় ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। তবে আজ মঙ্গলবার ওই পানি ৩ সেন্টিমিটার কমে সকাল ৬টায় বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ও সকাল ৯টায় ফের ৩ সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ১৯ সেঃ) ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। আবার দুপুর ১২টায় বিপদসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বন্যার পানি সামাল দিতে ব্যারেজে ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। এছাড়াও পাউবোর সকল কর্মকর্তা কর্মচারী বানভাসি মানুষের দেখাশুনায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিকে/মান্নান


Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন