Logo

সারাদেশ

দৌলতপুরে পদ্মার ভাঙনে বিলীন শত শত বিঘা জমি

Icon

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬, ২০:১৬

দৌলতপুরে পদ্মার ভাঙনে বিলীন শত শত বিঘা জমি


কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের হাটখোলাপাড়া, ভূরকাপাড়া, মাজদিয়াড় ও কোলদিয়াড় এলাকায় পদ্মা নদীতে নতুন পানি প্রবেশের পর তীব্র নদীভাঙন শুরু হয়েছে। গত ১৫ থেকে ২০ দিনে ভাঙনের কবলে পড়ে প্রায় ৫০ থেকে ১০০ জন কৃষকের ৩০০ থেকে ৪০০ বিঘা আবাদি জমি ও বিভিন্ন ফসল নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। নদীর তীব্র স্রোতে একের পর এক ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ থেকে মাত্র আধা কিলোমিটার দূরেই ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে দুটি ওয়ার্ডের প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও অন্যান্য স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত ১০ বছরে নদীভাঙনের কারণে হাজার হাজার একর কৃষিজমি, বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং কবরস্থানসহ কয়েকটি গ্রাম নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। এখন তাদের আর পিছিয়ে যাওয়ার মতো কোনো জায়গা বা সুযোগ নেই। অবিলম্বে নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তাদের শেষ সম্বলটুকুও হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে হবে।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ওই এলাকায় পদ্মা নদীর বিপদসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। বর্তমানে পানির উচ্চতা রয়েছে ৯ দশমিক ৩৭ সেন্টিমিটার, যা বিপদসীমার ৪ দশমিক ৪৩ সেন্টিমিটার নিচে। তাই আপাতত পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই। তবে নদী ভাঙ্গন রোধে ইমারজেন্সি জিও ব্যাগের ব্যবস্থা রয়েছে।

ওই এলাকার স্থানীয় কৃষক নেন্টু (৬২) জানান, গত ১৫ দিনে তার প্রায় আট বিঘা পাটখেতসহ আবাদি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। তিনি বলেন, প্রতিবছরই আমরা নদীভাঙনের শিকার হই। এবারও একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

মাজদিয়াড় এলাকার কৃষক ইউসুফ আলী জানান, গত ১২ থেকে ১৫ দিনে তার প্রায় পাঁচ বিঘা জমি, ঘাস ও পাটখেতসহ নদীতে বিলীন হয়েছে। তিনি নদীভাঙনের স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান।

এছাড়া ইয়াসিন প্রামাণিকের ছয় বিঘা, আমিরুল ইসলামের আট বিঘা, নজরুল ইসলামের তিন বিঘা, বাবুল প্রামাণিকের আড়াই বিঘা এবং সাধু ফরাজির ১২ বিঘাসহ প্রায় ৫০ থেকে ১০০ জন কৃষকের মোট ৩০০ থেকে ৪০০ বিঘা ফসলি জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, প্রায় এক মাস ধরে ভাঙন চললেও এখন পর্যন্ত পানি উন্নয়ন বোর্ড বা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাননি কিংবা কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি।

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদুর রহমান বলেন, পদ্মা ও গড়াই নদীতে পানি বৃদ্ধি এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে কুষ্টিয়ার কয়েকটি এলাকায় নদীভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আমরা ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট চিহ্নিত করেছি। দৌলতপুরের ভাঙনপ্রবণ এলাকায় আগাম প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পর্যাপ্ত জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, মরিচা ইউনিয়নের হাটখোলাপাড়া, ভূরকাপাড়া, মাজদিয়াড় ও কোলদিয়াড় এলাকায় নদীভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমি সংসদে দুই দফা বক্তব্য দিয়েছি এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গেও আলোচনা করেছি। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বর্তমানে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব না হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে ২ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বরাদ্দ আরও বৃদ্ধি করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি অব্যাহতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

স্থানীয় পদ্মা পাড়ের বাসিন্দারা বলেন, প্রতিবছরই পদ্মার ভাঙনে হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও অসংখ্য পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। অনেক পরিবার একাধিকবার ঘরবাড়ি হারিয়ে এখন আর পিছু হটার মতো কোনো জায়গা নেই। তারা একাধিকবার মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও স্থায়ী নদীশাসনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাই ভবিষ্যতে পুরো গ্রাম রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ ও কার্যকর নদীশাসনের দাবি জানান তারা।

বিকে/মান্নান
Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন