সমন্বিত কৃষি খামারে সফল উদ্যোক্তা লক্ষ্মীপুরের সাইফুল
মোস্তাফিজুর রহমান টিপু, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬, ২০:৪৫
পড়াশোনা শেষে যখন চাকুরীর পিছনে ছুটছে তরুনরা, তখন তার উল্টো পথ বেছে নিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের এক সাহসী তরুণ। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সমন্বিত কৃষি খামার গড়ে তুলে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। সাইফুল লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের হোগল ডহরী গ্রামের বাসিন্দা।
জানাগেছে, ২০২১ সালে সাইফুল আলম ২ একর জলাশয় ও কৃষি জমি লিজ নিয়ে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে রুই, মৃগেল, কাতল, ব্রিগেট, সিলভার কার্প, তেলাপিয়া ও কার্পু মাছের চাষ শুরু করেন। সঠিক ব্যবস্থাপনা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলে শুরুর দিকে তার এই প্রজেক্ট থেকে বছরে গড়ে প্রায় সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা লাভ হয়। সমন্বিত এ খামারে চারপাশের আড়ায় আছে ৪২টি নারিকেল গাছ থেকে এবং গ্রীষ্ম মৌসুমে ধান চাষেও লাভবান তিনি।
২০২৪ সালের বন্যায় লক্ষ্মীপুরের বহু মৎস্য চাষি ও কৃষি উদ্যোক্তা যখন সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছিলেন, তখনও সাইফুল আলম তার আধুনিক ব্যবস্থাপনার জ্ঞানকে খামারে কাজে লাগিয়ে অগ্রিম ঝুঁকি মোকাবিলা করেন। ফলে অন্যান্য উদ্যোক্তাদের তুলনায় তার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ কম হয়। বন্যার ধকল কাটিয়ে ২০২৫ সালে পরিবার ও বন্ধুদের সহযোগিতায় নতুন উদ্যমে মাছের পোনা সংগ্রহ করে চাষ শুরু করে আবারও সফলতার মুখ দেখেন।
চলতি ২০২৬ সালে সাইফুল আলম তার খামারকে সম্পূর্ণ ‘অর্গানিক খামারে’ রূপান্তর করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে শতভাগ অর্গানিক খাদ্য উৎপাদন ও খামার পরিচালনায় প্রয়োজন বড় অংকের নগদ অর্থ। এরই মধ্যে তিনি তার এই সমন্বিত কৃষি খামারকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে ১০ একর জমি লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে সামনে অগ্রসর হয়েছেন। নতুন এই মেগা প্রকল্পে মাছের পাশাপাশি থাকবে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, মৌসুমী ফল ও সবজি চাষ এবং মাছের রেণু উৎপাদন কেন্দ্র।
মো: সাইফুল আলম বলেন, ২০২৪ সালের বন্যায় আমার কিছুটা ক্ষতি হলেও লড়াই থামিয়ে দিইনি। বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কৃষি খাতের উন্নয়ন ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিয়ে যে স্বপ্নের কথা বলেছেন, সেই দূরদর্শী চিন্তাকে বুকে ধারণ করে আমি এন্টিবায়োটিক মুক্ত সমন্বিত অর্গানিক কৃষি খামার গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে অবিচল আছি। ১০ একর জমির এই বড় প্রজেক্টটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে বর্তমানে আমার প্রায় ২৫-৩০ লক্ষ টাকার প্রয়োজন।” তিনি আরও বলেন, “সরকারি বা বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এই সংকটকালীন সময়ে সহজ শর্তে ঋণ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়, তবে সরকারের নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের যে স্বপ্ন, তা মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা আমার জন্য অনেক সহজ হবে।”
এলাকাবাসীসহ স্থানীয় কৃষকরা মনে করেন, সাইফুলের মতো পরিশ্রমী ও লড়াকু উদ্যোক্তাদের পাশে যদি ব্যাংক বা সরকারি কোনো সংস্থা দাঁড়ায়, তবে তিনি শুধু নিজেই ঘুরে দাঁড়াবেন না, বরং এ অঞ্চলের বেকার যুবকদেরও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে।
বিকে/মান্নান

