চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। নগরের বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। স্বল্প গ্যাসচাপের কারণে একটি গাড়িতে গ্যাস নিতে আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস নিতে পারছেন না। এতে যেমন পরিবহন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি কমে যাচ্ছে চালকদের দৈনিক আয়। একই সঙ্গে নগরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রান্নাবান্না নিয়েও চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
এই সংকটের মূল কারণ কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডের পর এর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়া। টার্মিনালটি বন্ধ থাকায় জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে। বর্তমানে সেখানে মেরামতের কাজ চললেও দ্রুত স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার সম্ভাবনা নেই। ফলে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস সংকট আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সোমবার নগরের মুরাদপুর, অক্সিজেন, আগ্রাবাদ, বহদ্দারহাট, হালিশহর ও কর্ণফুলী এলাকার বিভিন্ন সিএনজি স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, শত শত অটোরিকশা, ট্যাক্সিক্যাব, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি গ্যাস নেওয়ার অপেক্ষায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। অনেক চালক দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেও দ্রুত গ্যাস নিতে পারছেন না। এতে যাত্রী পরিবহনে বিলম্বের পাশাপাশি আয়ও কমে যাচ্ছে।
সিএনজিচালক মোহাম্মদ সোহেল বলেন, “আগে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই গ্যাস নিতে পারতাম। এখন দুই-তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সময় নষ্ট হওয়ার কারণে প্রতিদিন কয়েকটি ট্রিপ কম দিতে হচ্ছে। এতে আয় অনেক কমে গেছে।”
আরেক চালক আবদুল করিম বলেন, “ভোরে লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যায় না। গ্যাসের চাপ কম থাকায় দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। এতে যাত্রীদেরও ভোগান্তি বাড়ছে।”
এদিকে নগরের আবাসিক এলাকাগুলোতেও গ্যাসের সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। অনেক এলাকায় দিনের বড় একটি সময় গ্যাস থাকে না। কোথাও আবার চাপ এতটাই কম যে চুলা জ্বালানোই সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেক পরিবার এলপিজি সিলিন্ডার ও বৈদ্যুতিক চুলার ওপর নির্ভর করছে, এতে বাড়তি ব্যয়ও গুনতে হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতেও। গ্যাসনির্ভর কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
মুরাদপুর ফুশিল সিএনজি স্টেশনের ব্যবস্থাপক বলেন, “জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের চাপ কম থাকায় আমরা স্বাভাবিকভাবে গ্যাস সরবরাহ করতে পারছি না। চাপ কম থাকায় প্রতিটি গাড়িতে গ্যাস দিতে বেশি সময় লাগছে। এ কারণে স্টেশনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে। গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে।”
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলএনজি টার্মিনালে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে মেরামতের কাজ চলছে। তবে টার্মিনালটি পুরোপুরি সচল না হওয়া পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাই আপাতত চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাস সংকট ও জনভোগান্তি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
বিকে/মান্নান

