বেপরোয়া বালু উত্তোলন
ঝুঁকিতে নদীতীর রক্ষা বাঁধ, হারাচ্ছে আবাদি জমি
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ১৩:৪১
ছবি: সংগৃহীত
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র বালু তোলায় চরম হুমকির মুখে পড়েছে নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প। একই সঙ্গে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে নতুন চর জাগার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যার ফলে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এ অঞ্চলের মূল্যবান আবাদি জমি। অন্যদিকে, খোলা অবস্থায় বালু পরিবহনের কারণে ধুলোবালিতে পথচারীদের যাতায়াতে চরম ভোগান্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
কাজিপুর ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৪৩৩ সনের বালুমহাল ইজারার আওতায় কাজিপুর মৌজার আরএস ১ নম্বর খতিয়ানের ৭০০১ নম্বর দাগের ১৯৪ দশমিক ১৭ একর জমি ইজারা দেওয়া হয়। ‘মেসার্স মিম কনস্ট্রাকশন’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এক কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় এই ইজারা গ্রহণ করে।
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, নদীতীর সংরক্ষণ কাজ থেকে অন্তত ৫০০ মিটার দূরে বালু সংরক্ষণ এবং এক হাজার মিটার দূর থেকে বালু তোলার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সে নিয়মের কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বালু উত্তোলনকারীরা নদী তীরের অতি কাছে প্রায় ৩৭টি পয়েন্টে বালু স্তূপ করে রাখা ও বেচাকেনা করছে। পুরো কাজিপুরজুড়ে যত্রতত্রভাবে বালু তোলায় নদীর তীর রক্ষা বাঁধ ভাঙন ঝুঁকিতে পড়ছে। একই সঙ্গে নদীতে নতুন চর জাগতে না পারায় কৃষিজমির পরিমান কমে যাচ্ছে।
এ ছাড়া যথেচ্ছভাবে বালু পরিবহনের ফলে পুরো এলাকা ধুলোবালিতে সয়লাব হয়ে থাকছে। এতে প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছে এবং ধুলোবালির কারণে স্থানীয় মানুষের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ নানা ধরনের রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ছে।
কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, উত্তোলিত বালু সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কয়েকটি পয়েন্টে নিয়ম না মানায় সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। এই নির্দেশ না মানলে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, নদীর স্থায়ী সুরক্ষা ও কৃষিজমি রক্ষায় যত্রতত্র বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাংলাদেশের খবর/আরইউ

