মেধা ও পাসের হারে বোর্ড সেরা
বগুড়ায় জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৪৭৮জন শিক্ষার্থী
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৪৯
চলতি বছর বগুড়া জেলা থেকে ৩২ হাজার ১৯৯জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাস করেছে ২৩ হাজার ৩৮৯জন শিক্ষার্থী। পাসের হার ৭২ দশমিক ৬৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৪৭৮জন শিক্ষার্থী। মেধা ও পাশের হারে এবার রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডে সেরা হয়েছে বগুড়া জেলা।
এদিকে পাসের হারে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জয়পুরহাট জেলা থেকে এ বছর ৮ হাজার ৪৯১জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাশ করেছে ৫ হাজার ৭৩৪জন। ওই জেলায় পাসের হার ৬৭ দশমিক ৫৩শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৪৭জন শিক্ষার্থী।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বরাবরের
মতোই সাফল্য ধরে রেখেছে বগুড়া শহরের স্বনামধন্য পাঁচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। জেলা শহরটির
শীর্ষ এই পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটিই অর্জন করেছে শতভাগ পাসের গৌরব। তবে জিপিএ-৫
প্রাপ্তির হারে এবার জেলার সব প্রতিষ্ঠানকে পেছনে ফেলে শীর্ষে উঠে এসেছে বগুড়া সরকারি
বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। আর শেরপুর উপজেলায় সেরা ও শতভাগ পাশ করে শীর্ষস্থান দখল করেছে
শেরউড ইন্টারন্যাশনাল (প্রাঃ) স্কুল এন্ড কলেজ।
শিক্ষা বোর্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর মোট ২১৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ২১৬ জন পাশ করেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮৪ জন, যা শতকরা হিসাবে ৮৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। পরীক্ষার্থীর সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে বড় কেন্দ্র ছিল বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪৩৬ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করে শতভাগ পাসের রেকর্ড অক্ষুণ্ন রেখেছে।
এখান থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৪৩ জন শিক্ষার্থী (৭৮.৬৭ শতাংশ)।
অন্যদিকে, শতভাগ পাসের দ্বারপ্রান্তে গিয়েও অল্পের জন্য তা হাতছাড়া হয়েছে বগুড়া জিলা
স্কুলের। ২২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২২ জন পাস করলেও অকৃতকার্য হয়েছে ১ জন। বিদ্যালয়টি
থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭৫ জন শিক্ষার্থী (৭৮.১২ শতাংশ)।
শহরের অন্য দুটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) পাবলিক স্কুল শতভাগ পাসের মাইলফলক ছুঁয়েছে। ৩৫৭ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭৬ জন (৭৭.৩১ শতাংশ)। আর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৪১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪১৮ জন পাস করেছে।
এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২৪ জন শিক্ষার্থী (৭৭.৩৩ শতাংশ)। বগুড়া
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে এবছর সর্বমোট ৪১৮ শিক্ষার্থী
পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই পাশ করে শতভাগ পাসের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। এদের মধ্যে ৩২৪
জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, এবছর বিজ্ঞান
বিভাগ থেকে ৪০৯ জন এবং ব্যবসায়শিক্ষা বিভাগ থেকে ৯জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।
শতভাগ পাসের পাশাপাশি জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হার প্রায় ৭৭.৫। বাকি ৯৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে
৯২ জন ‘এ’ এবং ২ জন ‘এ-’ পেয়ে পাশ করেছে।
অন্যদিকে জেলার অন্যান্য উপজেলার মধ্যে
শেরপুর উপজেলার ফলাফল শীর্ষ তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে শেরউড ইন্টারন্যাশনাল (প্রাঃ) স্কুল এন্ড কলেজ ।
এ প্রতিষ্ঠান থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় ১৯৪জন মধ্যে ১৯৪ পাশ করে শতভাগ স্থান অর্জন
করে। এর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৩২জন, ২য়স্থানে রয়েছে পল্লী উন্নয়ন একাডেমী ল্যাবরেটরী স্কুল
এন্ড কলেজ। ২৫৯ জন পরীক্ষায় অংশ করে পাশ করেছে ২৪৭জন, আর জিপি-এ-৫ পেয়েছে ১৪৫জন, পাশের
হার শতকরায় ৯৯.২০%। এক্ষেত্রে তৃতীয়স্থানে রয়েছে সামিট স্কুল এন্ড কলেজ। এ প্রতিষ্ঠান
থেকে এবার ১৮৮জনের মধ্যে ১৭৮জন পাশ করেছে, এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩২জন, পাশের হার
৯৪.৬৯%।
শেরপুরের শেরউড ইন্টারন্যাশনাল (প্রাঃ)
স্কুল এন্ড কলেজ অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রহিম বলেন, শিক্ষার্থীদের সার্বক্ষণিক সাহস ও অনুপ্রেরণা
দিয়েছি। তারা ভালো পরীক্ষা দেওয়ায় ভালো ফলাফল করেছে। এ ফলাফলে আমি ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনা
পক্ষ খুশী। আমি আশা করব তারা আগামীতেও ভালো ফলাফলের ধারা অব্যাহত থাকবে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর
বোর্ডের অধীনে এক লাখ ৭৬ হাজার ৪৪ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে
উত্তীর্ণ হয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৮৬ জন। বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ
এবং মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর রাজশাহী বোর্ডে
পাসের হার ছিল ৭৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২২ হাজার ৩২৭ জন। ফলে এক বছরের
ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১৩ দশমিক ৯৬ শতাংশীয় পয়েন্ট। আর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর
সংখ্যা কমেছে ছয় হাজার ২১৪ জন। বোর্ডের তথ্যমতে, সার্বিক ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫
উভয় সূচকেই ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা।
বাংলাদেশের খবর/এম.আর

