Logo

সারাদেশ

পরশুরামে চর কেটে ইটভাটায় মাটি উত্তোলনের অভিযোগ

Icon

ফেনী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬, ২০:১৫

পরশুরামে চর কেটে ইটভাটায় মাটি উত্তোলনের অভিযোগ

ফেনীর পরশুরামে রাতের আঁধারে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের চর কেটে মাটি ইটভাটায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে রোববার  রাতে পরশুরাম মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

স্থানীয় ও পাউবো সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের কাপ্তান বাজার ব্রিজের পূর্ব পাশে কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের চর থেকে এস্কেভেটর দিয়ে মাটি কাটা শুরু করে চক্রটি। পাহারাদারের চোখ ফাঁকি দিয়ে সেই মাটি ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল স্থানীয় খন্ডল ব্রিকফিল্ডে। রাতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরশুরাম মডেল থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়।

তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা পালিয়ে যান। ঘটনার পরদিন রোববার সকালে উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ ইয়াছিন এবং পাউবোর পরশুরাম উপজেলার দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ পৃথকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিমাপ করেন। তদন্তে চর কেটে মাটি নিয়ে যাওয়ার সত্যতা মেলে।

পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, বাঁধের চর থেকে মাটি কেটে ভারী যানবাহনে পরিবহন করার ফলে বেড়িবাঁধের বেশ কিছু অংশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছে। বাঁধের নিরাপত্তায় জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে খন্ডল ব্রিকফিল্ডের ব্যবস্থাপক মো. ইব্রাহিম ১০ থেকে ১২ গাড়ি মাটি তাদের ইটভাটায় আনার কথা স্বীকার করেন। তবে মাটি কার কাছ থেকে কেনা হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বর্তমানে ভরা বর্ষা মৌসুম চলায় যেকোনো সময় কহুয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। এ অবস্থায় মাটি কেটে নেওয়ায় বাঁধটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়ে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা করছেন তারা।

ফেনী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, নদীর চর থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার সত্যতা পাওয়া গেছে। বাঁধের সুরক্ষায় এবং দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়েই রাতে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতনু বড়ুয়া বলেন, বাঁধের বা নদীর চর থেকে মাটি কাটার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টির গভীর তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের খবর/এম.আর

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন