Logo

সারাদেশ

সুনামগঞ্জে দেশীয় মাছের আকাল পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

Icon

ধর্মপাশা -মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫৮

সুনামগঞ্জে  দেশীয় মাছের আকাল  পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার একাংশ টাঙ্গুয়ার হাওর ছিল দেশের অন্যতম বৃহৎ মিঠাপানির মাছের অভয়াশ্রম। টাঙ্গুয়ার হাওরে দেখা দিয়েছে তীব্র মাছের সংকট। এক সময় দেশি প্রজাতির অসংখ্য মাছের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত এই হাওরে এখন অনেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার, বৈদ্যুতিক শক মেশিন, জলমহাল ইজারাদারদের বিষ প্রয়োগ এবং কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে হাওরের জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

এখানকার রুই, কাতলা, মৃগেল, চিতল, আইড়, বোয়াল, শোল, বাউশ, কৈ, শিং, পাবদা, গজার, পুঁটি, মলা, চাপিলা, কেচকি, ভেদেরা, বালিরাসহ নানা প্রজাতির মাছ দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হতো। কিন্তু বর্তমানে এসব মাছের অনেকগুলোই বিরল হয়ে পড়েছে এবং বেশ কয়েকটি প্রজাতি বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে

জানা গেছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওর সুনামগঞ্জের মধ্যনগর ও তাহিরপুর উপজেলায় বিস্তৃত।সুনামগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ হাওরের আয়তন ১২ হাজার ৬৫৫ হেক্টর। চারটি ইউনিয়নের ১৮টি মৌজাজুড়ে বিস্তৃত হাওরটিতে রয়েছে ৫৪টি ছোট-বড় বিল এবং অসংখ্য খাল। বর্ষা মৌসুমে পুরো এলাকা বিশাল জলরাশিতে পরিণত হয়, যা স্থানীয়দের কাছে ‘সায়র’ বা ‘সাগর’ নামে পরিচিত। হাওর ও এর তীরবর্তী ৮৮টি গ্রামের প্রায় ৬০ হাজার মানুষের জীবন-জীবিকা এই জলাভূমিকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিত্তশালী কিছু ব্যক্তি জেলে পরিচয়ে সমবায় সমিতি গঠন করে জলমহালের ইজারা গ্রহণ করছেন। পরে তারা অধিক মুনাফার আশায় বিষ প্রয়োগসহ বিভিন্ন অবৈধ পদ্ধতিতে মাছ আহরণ করছেন। ফলে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে দেশি প্রজাতির মাছের সংখ্যা। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রকৃত জেলে পরিবারগুলোর জীবিকায়। অনেক জেলে পরিবার কর্মহীন হয়ে পড়ছে।

পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজার মতে, অপরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, ইজারাদারদের রাসায়নিক প্রয়োগ, নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল, বৈদ্যুতিক শক মেশিন এবং কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে হাওরের প্রায় ৯ হাজার ৭২৭ হেক্টর জমি ও জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে মাছের প্রজনন, বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক বিচরণ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি জলদূষণ ও নাব্য সংকটের কারণে মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জনাব কে এম মাহফুজুর রহমান জানান, কারেন্ট জাল ও নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের অবাধ ব্যবহার, প্রজনন মৌসুমে মা ও পোনা মাছ নিধন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার দেশীয় মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমিয়ে দিচ্ছে।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন