খুলনায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণে সিটি কর্পোরেশনের দীর্ঘসূত্রতা
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ২০:৫৫
খুলনা মহানগরীর দীর্ঘদিনের পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবন অপসারণ কার্যক্রম থমকে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকা ভবনগুলো চলতি বর্ষা মৌসুমে আরও ঝুঁকি তৈরি করেছে। অনেক ভবনের ছাদের নিচের বিভিন্ন অংশও খুলে পড়ছে। জন্মেছে গাছ-পালা ও। বিভিন্ন অংশে ধরেছে ফাটল। এ অবস্থায় ভবন ধসে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে সিটি কর্পোরেশনের একটি কমিটি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে তা ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু সে উদ্যোগে এগোয়নি। এ ছাড়া যাচাই-বাছাই শেষে গত বছর ঝুঁকিপূর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী ৪৮টি ভবনের ছাদ ভেঙে অপসারণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।সেটিও বর্তমানে থমকে আছে।
সূত্র মতে, খুলনা মহানগরীতে দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে নগরবাসী বসবাস করছেন। এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের মধ্যে নগরীর বড়বাজারে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। এ বাজারের অধিকাংশ দ্বিতলতলা ও তিনতলা ভবনের ওপরের অংশে ভাড়াটিয়ারা পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন, দ্বিতীয়তলায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের গোডাউন এবং নিচতলায় বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর ব্যবসা রয়েছে। এ বাজারে ২০০৮ সালে ভবন ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, খুলনা মহানগরীর প্রাণকেন্দ্র ডাকবাংলা এলাকার লোয়ার যশোর রোডের হোল্ডিং নাম্বার ৮৩,নগরীতে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবন মৃত: নুরনদ্দিন সরদারের অতি পুরাতন বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনটির ছাদ ও বিভিন্ন অংশ খুলে পড়ে যাওয়ার যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
কেসিসি থেকে জানা গেছে, সরেজমিন পরিদর্শনের পর ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল কেসিসি, ফায়ার সার্ভিস, গণপূর্ত অধিদপ্তর, কেডিএ ও কেএমপি ৫টি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত উপ-কমিটির সদস্যরা ভবনটি বসবাসের অনুপযোগী ঘোষণা করেন। ওই বছরের ২১ আগস্ট কেসিসি ওই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ও বসবাসের জন্য নিরাপদ নয় মর্মে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়।অন্যদিকে মৃত :নুরুদ্দিন সরদারের ছেলে এস এম এমদাদুল হক ও একরামুল হকসহ মৃত: আসাদুল হকের ছেলে এস এম রিয়াজ কেসিসিতে ওই ভবনটির অপসারণের জন্য আবেদন করেন।
২০২৪ সালের ৩০ মে ভবনটির এক অংশ ধসে পড়ায় ৫ জুন ২০২৪ সালে কেসিসি ৩৭৭ নং স্মারকে আবারও অপসারণের নোটিশ প্রেরণ করেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সও ভবনটি দ্রুত অপসারণের জন্য কেসিসিতে পত্র প্রেরণ করেন। এরপর ১০ ডিসেম্বর আবারও চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু ভবনটি অপসারণ করা হয়নি।
সর্বশেষ গত ২৩ জুন ২০২৬ সাল মৃত: ইমদাদুল হকের মেয়ে সায়মা হক আবারও কেসিসিতে ভবন অপসারণের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু তারপরও অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
এ ব্যাপারে জানতে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা: রাজিব আহমেদের কাছে গেলে তিনি প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন। কেসিসির প্রধান প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মশিউজ্জামান খান বলেন, খুব দ্রুত মহানগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ও পরিত্যক্ত ভবনগুলোর বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে সেগুলো অপসারণ বা নিরাপদ করার প্রক্রিয়া আটকে থাকায় নগরবাসীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যেসব ভবনের নিচতলায় দোকানপাট, গোডাউন কিংবা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ওপরের তলায় মানুষের বসবাস রয়েছে, সেসব স্থাপনায় ঝুঁকির মাত্রা আরও বেশি।
নগরীর ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে কোনো জরাজীর্ণ ভবন ধসে পড়লে শুধু ভবনে বসবাসকারীরাই নয়, পথচারী, ব্যবসায়ী ও আশপাশের মানুষও ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর তালিকা হালনাগাদ করে দ্রুত পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং আইনানুগ অপসারণ কার্যক্রম বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ অবস্থায় নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে সিটি কর্পোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণে দীর্ঘসূত্রতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বাড়তে পারে।
বিকে/মান্নান

