Logo

সারাদেশ

বেরোবির এক বাস মেরামতেই ২৮ লাখ টাকা ব্যয়!

Icon

বেরোবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬, ২১:০৩

বেরোবির এক বাস মেরামতেই   ২৮ লাখ টাকা ব্যয়!

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) একটি বাস মেরামতে প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ের সংবাদ প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। এবার সরেজমিনে গিয়ে বাসটি মেরামতের কাজ পাওয়া প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাসটি মেরামতের কাজ পেয়েছে ফ্রেন্ডস ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তবে প্রতিষ্ঠানটির মূল কার্যক্রম দরজা-জানালা তৈরি ও মেরামত করা। ওয়ার্কশপটির আশপাশেও বাস বা ট্রাক মেরামতের কোনো গ্যারেজ পাওয়া যায়নি।

প্রতিষ্ঠানটির সাইনবোর্ডে মালিক হিসেবে মো. আহসান হাবীবের নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের তথ্যমতে, বাস মেরামতের কাজের টেন্ডার পেয়েছেন আনিস আহমেদ। পরে জানা যায়, ফ্রেন্ডস ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপটি আহসান হাবীবের হলেও ওই প্রতিষ্ঠানের নামে টেন্ডার নিয়েছেন তার ভাই আনিস আহমেদ।

জানতে চাইলে আহসান হাবীব বলেন, ‘এই দোকানে শুধু দরজা-জানালার কাজ করা হয়। বাস বা ট্রাকের কাজ আমার ভাই করেন। তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে টেন্ডারের কাজ নেন। তবে এসব কাজ অন্য দোকানে করানো হয়।’

সম্প্রতি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো বাস মেরামতের কাজ পেয়েছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তার ভাই আনিস আহমেদ বলতে পারবেন।

কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন টেন্ডার পাওয়া আনিস আহমেদ। সেখানে সাংবাদিকদের দেখে তিনি প্রথমে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে চান। পরে তিনি জানান, বাস মেরামতের কাজটি তিনিই নিয়েছেন। তবে কাজটি নিজের প্রতিষ্ঠানে না করে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানে করিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ফ্রেন্ডস ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ নামে আমার রেজিস্ট্রেশন করা আছে। আমি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন টেন্ডারে আবেদন করি। সবচেয়ে কম দামে কাজের প্রস্তাব দেওয়ায় আমি কাজটি পাই। পরে ঠিকমতো কাজ শেষ করে দিয়েছি।’

বাসে কী ধরনের কাজ করা হয়েছে জানতে চাইলে আনিস আহমেদ বলেন, বাসে জাপানি ইঞ্জিন, ভালো মানের টায়ার ও নতুন সিট লাগানো হয়েছে। এছাড়া বাসের পুরো বডিও পরিবর্তন করা হয়েছে। এ কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

নিজের প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ওয়ার্কশপের নামে রেজিস্ট্রেশন করা আছে বলেই শুধু ওয়ার্কশপের কাজ করতে হবে, এমন নয়। আমি সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাস, ট্রাক ও অন্যান্য কাজের টেন্ডার নিয়ে থাকি এবং কাজ করে থাকি।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বাসটি মেরামতের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান। কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার আকিফ।

বাস মেরামতের কাজ কীভাবে দরজা-জানালা তৈরির একটি ওয়ার্কশপ পেল, জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহরিয়ার আকিফ বলেন, ‘যারা কম রেটে টেন্ডারে আবেদন করেছেন, তাদের মধ্য থেকেই আমরা কাজ দিয়েছি। প্রতিষ্ঠানটি সরকারি তালিকাভুক্ত ছিল। এছাড়া তাদের পূর্বের কাজের অভিজ্ঞতার কাগজপত্রও চাওয়া হয়েছিল। সেগুলো যাচাই-বাছাই করেই কাজ দেওয়া হয়েছে।’

একই টেন্ডারে বাস মেরামতের কাজ করে এমন অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছিল কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘করতে পারে। তবে যারা কম টাকায় কাজটি করতে চেয়েছে, তাদের মধ্য থেকেই আমরা কাজ দিয়েছি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলের পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। কমিটির আহ্বায়ক এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন। তবে টেন্ডারের ক্রাইটেরিয়া পূরণ না করলে তো টেন্ডার পাওয়ার কথা নয়। তিনি হয়তো প্রয়োজনীয় ক্রাইটেরিয়া পূরণ করেছেন বলেই তাকে কাজ দেওয়া হয়েছে।’

বাস মেরামত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘তার সম্ভবত ওই কাজের লাইসেন্স আছে, বিধায় তাকে কাজ দেওয়া হয়েছে। তবে বিস্তারিত জানতে প্রকৌশল দপ্তরে যোগাযোগ করতে পারো।’

তবে দরজা-জানালার কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠানের নামে বাস মেরামতের টেন্ডার নিয়ে অন্যত্র কাজ করানো এবং প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বাসটি মেরামতের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিকে/মান্নান

Logo
সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি মোস্তফা কামাল মহীউদ্দীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন